আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিজ কাঁধে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল টাইগাররা। ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থেকে সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পায় টাইগাররা। এতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সম্ভাবনাও এখন ফিকে হয়ে গেছে টাইগারদের। 

আগামীকাল দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে টিম টাইগার্স। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে খেলাটি। এই ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় হাথুরুসিংহে প্রশ্ন করা হয় দলের এই ব্যর্থতার দায় কতটুকু নেবেন তিনি।

উত্তরে হাথুরুসিংহে বলেন, এ দলের অন্য সবার মতো এই ব্যর্থতার দায় আমিও নিচ্ছি। আমরা সমর্থকদের হতাশ করেছি, একই সঙ্গে আমরা নিজেদেরও হতাশ করেছি। আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলতে পারিনি। কিন্তু প্রথম ম্যাচ থেকে এ পর্যন্ত কিছুই পরিবর্তন হয়নি। শুধু একটা যে জিনিস পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমাদের মাথার মধ্যে যা ঘুরছে, আমাদের চিন্তাভাবনা। স্কিল কোথাও চলে যায়নি।

আমার মনে হয় আমরা নিজেদেরকে বাড়তি প্রত্যাশা দিয়ে দমিয়ে রেখেছি। এই একটা ব্যাপার নিয়েই আমরা ভাবতে পারি। কারণ, আপনি ঠিকই বলেছেন, সামর্থ্য অনুযায়ী অথবা বিশ্বকাপে আসার আগে খেলা সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি। সেদিক থেকে আমাদের আয়নায় তাকাতে হবে আর দেখতে হবে কী ভুল হলো।

অর্জনের খাতায় এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া একটি মাত্র জয়। এরপর থেকেই টানা হেরে চলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে হিসাব মেলানো, এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ কী পেল আর কী পেল না। 

সেরা খেলাটা খেলতে না পারার প্রশ্ন ধরেই এসেছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডার বারবার পরিবর্তনের বিষয়টি। সেটা কি ব্যাটসম্যানদের কিছুটা হলেও অস্থির করে তোলেনি? হাথুরুসিংহে বললেন, ‘বিষয়টি নিশ্চয়ই ব্যাটিং অর্ডারের নয়, তাই নয় কি? আপনি কত নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন, এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনি যেখানে ব্যাট করতে নামেন আর কততম ওভারে কখন ব্যাট করতে নামেন, তা।

হাথুরুসিংহেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের কোচের পদে আর থাকতে পারবেন কি না?

 জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে এবং দেখতে হবে কী ভুল হয়েছে। আর আমার কোচ হিসেবে থেকে যাওয়ার কথা, এটা আমার হাতে নয়। এই সিদ্ধান্ত বোর্ড নেবে।