গণবিক্ষোভের মুখে চীন সরকার তাদের ‘জিরো-কভিড পলিসি’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির ভূরাজনীতি থেকে অর্থনীতি, সব জায়গায় এর প্রভাব দৃশ্যমান। চীনের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও এর বাইরে নয়। নতুন সিদ্ধান্তে সিনেমা হলগুলোয় টিকিট বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বেশি জনসমাগমের কারণে আবার করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার ভয়ও আছে।
চীনের সিনেমা খাতে ২০২২ ছিল হতাশার বছর। চীনা বক্স অফিসের আকার প্রায় ৩৬ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারে নেমে এসেছে। দেশটিতে হলিউডের সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ডোমিনিয়ন’ ও ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ তুলনামূলক ভালো ব্যবসা করেছে। তবে সেখানকার থিয়েটারগুলোয় এসব সিনেমা মুক্তির তারিখ নিয়ে বেশ ঝামেলা হয়েছে। অনেক সময় দেরিতে মুক্তির তারিখ ঘোষণা হয়েছে। কখনো কখনো কোনো সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি পায়নি। গত বছর দেশটিতে কেবল ১২টি বিদেশী স্টুডিওর মুভির প্রবেশাধিকার ছিল। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ২০-এর নিচে। আর ২০১৯ সালে তা ৩০-এর বেশি ছিল। ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’-এর পর থেকে মার্ভেলের কোনো সিনেমা চীনে মুক্তি পায়নি। এমনকি চীনের স্থানীয় সিনেমাগুলোও খুব বেশি দিন প্রদর্শিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত হল পায়নি।
করোনা সংক্রমণ আতঙ্ক প্রাথমিকভাবে ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ সিনেমার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে তা কাটিয়ে সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় টিকিট বিক্রির প্লাটফর্ম ‘মাওইয়ান’-এর মতে, সিনেমাটি মোট ২২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার আয় করার সম্ভাবনা আছে।
২০২৩ সালে চীনের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কী ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবে, তার স্পষ্ট কোনো চিত্র এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে, মার্চের শেষ দিকে দেশটিতে কভিডের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তবে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া চীনা নববর্ষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সিনেমার বাজার রমরমা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে বেশকিছু চীনা সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এদের মধ্যে ‘দ্য ওয়েন্ডারিং আর্থ টু’, ‘ফুল রিভার রেড’, ‘হিডেন ব্লেড’, ‘ফাইভ হান্ড্রেড মাইলস’ ও অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ডিপ সি অ্যান্ড বুনি বিয়ারস: গার্ডিয়ান কোড’-এর নাম উল্লেখযোগ্য। যদি সিনেমাগুলো গত বছরের নববর্ষের সমপরিমাণ ব্যবসা করতে পারে, তাহলে চীনের সিনেমা বাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। অতিমারী বিশেষজ্ঞদের মতে, নববর্ষের অনুষ্ঠানের কারণে দেশটিতে করোনা কিংবা নতুন কোনো ফ্লু আঘাত হানার আশঙ্কা আছে।
এ বছরের মাঝামাঝিতে আশার আলো হতে পারে ‘দ্য মেগ টু: দ্য ট্রেঞ্চ’। দ্য ওয়ার্নার ব্রোসের সিনেমাটি আগস্টে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা আছে চীনা কর্তৃপক্ষের। এটিতে সহপ্রযোজক হিসেবে আছে চায়না মিডিয়া ক্যাপিটাল। ২০১৮ সালে একই মাসে সিনেমাটির প্রিকুয়েল ‘দ্য মেগ’ ১৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ব্যবসা করেছিল।
অতিমারীর প্রভাবে এ বছর চীনা সিনেমা মুক্তির সংখ্যা কম হতে পারে। তবে চীন এ খাতের অন্তত ৫৫ শতাংশ শেয়ার স্থানীয় সিনেমার মাধ্যমে ধরে রাখতে চায়। লন্ডনভিত্তিক গাওয়ার স্ট্রিট অ্যানালাইসিসের মতে, ২০২৩ সালে চীনা সিনেমাগুলো ৫ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারের ব্যবসা করতে পারে, যা ২০২২-এর তুলনায় বেশি হলেও ২০২১-এর তুলনায় অনেক কম। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পরিমাণটি ছিল ৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার।
চীন বিশেষজ্ঞ ও ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক স্ট্যানলি রোজেন মনে করেন চীনে আপাতত হলিউডের বাজার তার আগের অবস্থা ফিরে পাবে না। বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করেন, হলিউডের ছবি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকলে চীনের তরুণ প্রজন্মের অনেক দর্শক সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। চীন ও হলিউডের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হলে তা উভয় পক্ষকেই লাভবান করত। কিন্তু ট্রাম্প জমানার পর থেকে এ বিষয়ে পানি আর সামনে গড়ায়নি।
সূত্র ও ছবি: ডেডলাইন










