একসময় টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত দেখা যেত হৃদি হককে। এরপর নির্মাণেই বেশি মন দেন তিনি। টেলিভিশন ও মঞ্চ নিয়ে সমান ব্যস্ত এ অভিনেত্রী সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। ১৮ আগস্ট মুক্তি পায় হৃদি হক পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘১৯৭১: সেই সব দিন’। এর মূল ভাবনা প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হকের। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হৃদি হক নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় থেকেই এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সিনেমাটির পোস্টার নিয়ে শুরু হয় ফের আলোচনা। হাতে আঁকা সিনেমার পোস্টার দিয়ে সবার নজর কাড়ে ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ সিনেমাটি। এরপর গান ও ট্রেলার দিয়ে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয় সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই আলোচিত এটি। 

১৯৭১: সেই সব দিনের চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন হৃদি হক নিজেই। এ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন বীথি চরিত্রে। তার বিপরীতে আছেন ফেরদৌস আহমেদ। এতে আরো অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ, শিল্পী সরকার অপু, ফেরদৌস, তারিন, লিটু আনাম, সজল, সাজু খাদেম, সোনিয়া হোসেন, সানজিদা প্রীতি প্রমুখ। মুক্তির এক সপ্তাহ পরও সিনেমাটি দেখতে হলে আসছে দর্শক। স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসে গিয়ে দেখা যায় দর্শকের ভীষণ আগ্রহ সিনেমাটি নিয়ে। একাধিক তারকা সিনেমাটি দেখে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। দর্শকের এ আবেগ নিয়ে জানতে চাইলে হৃদি হক বলেন, ‘‌দর্শকই আমাদের প্রাণ। এই যে এত দর্শক এসেছে, তারা যে আবেগ আর দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে হল থেকে বের হচ্ছে, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। এ জেনারেশনসহ আমাদের আগের জেনারেশনও আসছে সিনেমাটা দেখতে। সবাই সিনেমা দেখতে আসছে, এটা ভীষণ আনন্দের।’ 

প্রথম সপ্তাহে ১০টি প্রেক্ষাগৃহে ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ মুক্তি পায়। তবে চলতি সপ্তাহেই সে সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে। এ নিয়ে জানতে চাইলে হৃদি হক বলেন, ‘‌হল যে ডিস্ট্রিবিউট করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে অজ্ঞাত কারণে কিছুটা বঞ্চিত করা হচ্ছে আমাদের। আমাদের শক্তি হচ্ছে দর্শক। আমাদের সিনেমাটা দেখতে অনেক দর্শক আসছে, শো হাউজফুল যাচ্ছে। আমার মনে হয় এখনকার দর্শক অনেক স্মার্ট, তারা ভালো মেকিংয়ের সিনেমা গ্রহণ করবে।’ 

বাবার ভাবনায় সিনেমা নির্মাণ করাটা কি চ্যালেঞ্জের জানতে চাইলে হৃদি হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমার বাবা ড. ইনামুল হক একটা নাটক নির্মাণ করেন। নাটকটার নাম ছিল “সেইসব দিনগুলি”। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিল প্রতিরোধ দিবস। সেদিন ড. ইনামুল হকের লেখা নাটক পাকিস্তান টিভিতে প্রচার হয়েছিল। সেটা ছিল প্রতিবাদের নাটক। এ নাটক সে সময় স্বাধীনচেতা বাঙালিদের মনে বেশ নাড়া দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটকও বাবার লেখা। সেইসব দিনগুলি নাটক নিয়ে আমরা মঞ্চে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। মঞ্চে কাজ করা থেকেই আমার মনে হতো এ গল্পের মূল ভাবনাকে নিয়ে আমি নিজের মতো করে আবার লিখতে চাই সিনেমার জন্য। আবার বাবা ড. ইনামুল হক অনেক আধুনিক একজন মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে কখনো বলেননি যে আমি তার নাটকের ভাবনা নিয়ে কিছু করতে পারব না। বরং বাবাই আমাকে এ নির্দেশনা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। এটা একটা বিশাল দায়িত্বের বিষয়। চ্যালেঞ্জ তো ছিলই।’ 

‘১৯৭১: সেই সব দিন’ সিনেমাটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে নির্মাণ হয়েছে। এর শুটিংয়ের বেশির ভাগই সম্পন্ন হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে। তবে ঢাকা, সাভার, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, রাজেন্দ্রপুর, পঞ্চগড়েও শুটিং হয়। এর সংগীত পরিচালনা করেছেন কলকাতার দেবজ্যোতি মিশ্র। এ সিনেমার ‘‌যাচ্ছো কোথায়’ ও ‘‌ইয়ে শামে’ গান দুটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।