গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া ‘টার’ সিনেমা দিয়ে আরো একবার অস্কারের মঞ্চে শক্ত এক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে হাজির করেছেন আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা টড ফিল্ড। তিনি এ পর্যন্ত মোট তিনটি ছবি নির্মাণ করেছেন। প্রথম দুটি সিনেমার জন্যও তিনি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে অস্কারটা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। ‘টার’ সিনেমার মাধ্যমে তার এ অপ্রাপ্তি ঘুচার সম্ভাবনা আছে ভালোমতোই। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেট ব্ল্যানচেট। আশা করা যায়, এ সিনেমা টডকে তার প্রথম ও কেটকে তার তৃতীয় অস্কারটি হাতে এনে দেবে।
নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি পেলেও টড ফিল্ডের শুরুটা হয়েছিল অভিনয়ের মাধ্যমে। স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘রেইডার্স অব দ্য লস্ট আর্ক’ দেখে সিনেমার প্রেমে পড়েন এ নির্মাতা। ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের এ সিনেমা অসংখ্য বার দেখার পর তিনি নিজে সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হাই স্কুলে পড়াকালীন বিষয়টি শুরু হয়েছিল। একটি সেকেন্ড-রান মুভি হাউজে তখন আমি কাজ করতাম। আমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি সিনেমা ছয় মাস ধরে চালাতাম। সে সময় ৩৫০ বারের মতো ‘রেইডার্স অব দ্য লস্ট আর্ক’ সিনেমাটি আমি প্রদর্শন করেছিলাম। তখন থেকে আমি সিনেমার প্রেমে পড়ে যাই।’
টড ফিল্ড যে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি, তা তার সফল ক্যারিয়ারই প্রমাণ করে। নির্মাতা হিসেবে প্রায় ২৩ বছরের বিস্তৃত ক্যারিয়ার তার। সে তুলনায় তার কাজের সংখ্যা কম হলেও প্রতিটি সিনেমাই ব্যাপক সাফল্য ও প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যাগত নয়, গুণগত দিক দিয়েই বাজিমাত করেছেন তিনি। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইন দ্য বেডরুম’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে যাত্রা হয় টড ফিল্ডের। প্রথম সিনেমা দিয়েই নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ‘লিটল চিলড্রেন’। তারপর দীর্ঘ বিরতি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তার।
তবে সাফল্যের মুদ্রার অন্য পিঠটিও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে দেখে মানুষ ভাবে আপনি চেয়ারে বসে আছেন, আর সবাই আপনাকে সবকিছু এনে দিচ্ছে। তারা বুঝে না আপনি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, কারণ সবকিছু নিয়েই আপনাকে চিন্তা করতে হয়।’
সূত্র: ইন্ডিওয়্যার










