হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বছর ধরে কোনো ধর্মঘটের খবর শোনা যায়নি। কিন্তু মঙ্গলবার তাতে ছন্দপতন ঘটল। আর তাতে হলিউডের প্রায় ১৫ বছরের শান্তি বিঘ্নিত হলো। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা ও টেলিভিশনের স্ক্রিপ্ট রাইটাররা ধর্মঘট ডেকেছেন। তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার বিকালে তারা ধর্মঘট শুরু করেছে। হলিউডের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্টুডিওগুলোর বিরুদ্ধে টেলিভিশন ও সিনেমার ১১ হাজার ৫০০ জন স্ক্রিপ্ট লেখক এ ধর্মঘট ডেকেছেন। এসব স্টুডিওর মধ্যে ইউনিভার্সাল, প্যারামাউন্ট, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন ও অ্যাপল অন্যতম। লেখকদের তিন বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভোটের মাধ্যমে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয় ইউনিয়ন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে লেখকরা বিক্ষোভ প্রদর্শণী শুরু করেছেন। প্রধান স্টুডিওগুলো এ দুই শহরে অবস্থিত। বিক্ষোভের অনেক ছবি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ভাইরাল হয়েছে। ‘স্ক্রিপ্ট গাছে ধরে না!’ ও ‘লেখালেখির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে’ ইত্যাদি স্লোগান সবার নজর কেড়েছে। লেখকদের অবমূল্যায়ন, বেতন কমানো, চাকরি থেকে ছাঁটাই করা, চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ের প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেছে লেখকদের ইউনিয়ন। রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা লেখকদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন। সিনেমা কোম্পানিগুলোর আচরণ ‘গিগ ইকোনমি’ সৃষ্টি করেছে বলে সংস্থাটি জানায়। তারা লেখকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। এ ধরনের চুক্তিতে অনমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে স্টুডিওগুলো। লেখকদের মতামত জানানোর বা দর কষাকষির কোনো সুযোগ দিচ্ছে না তারা। ফলে লেখালেখির পেশা অবমূল্যায়িত হচ্ছে বলে জানায় ইউনিয়ন। এক্ষেত্রে আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে অনেক পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে জানান রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকার নেগোশিয়েটিং কমিটির কো-চেয়ার ক্রিস কাইজার।

স্ক্রিপ্ট রাইটারদের এ বিক্ষোভ হলিউডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এমনিতেই কভিড মহামারী ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে অনেকটা বিপর্যস্ত এ ইন্ডাস্ট্রি। তার ওপর এমন আঘাত। ধর্মঘটের ফলে অনেক প্রডাকশনের কাজ থেমে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রডাকশনের কাজ বন্ধ থাকা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষ করে প্রডাকশনের কাজে সহযোগী ভূমিকা পালনকারী কর্মীদের জন্য তা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ড্রাইভার, কস্টিউম ড্রাই ক্লিনার্স, ক্যাটারারস, সেট কার্পেন্টারস অন্যতম। এর আগে ২০০৭ সালে লেখকরা ১০০ দিনের জন্য ধর্মঘট করেছিল। সে সময় লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এ ইন্ডাস্ট্রি ২১০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল।

বেতন বাড়ানো লেখকদের প্রধান দাবি। গত দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্ক্রিপ্টভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সম্প্রচার দ্রুতগতিতে বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় স্ক্রিপ্ট রাইটারদের বেতন বাড়েনি বলে জানায় রাইটারস গিল্ড অব আমেরিকা। নেটওয়ার্ক টেলিভিশনের যুগে লেখকরা কোনো অনুষ্ঠানের একটি সিজনে ২০টিরও বেশি এপিসোডে কাজ করার সুযোগ পেতেন। তা থেকে সারা বছর চলার মতো জীবিকা তারা উপার্জন করতে পারতেন। কিন্তু স্ট্রিমিংয়ের যুগে এপিসোডের সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে এপিসোডের সংখ্যা ০৮-১২-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে স্ক্রিপ্ট রাইটারদের সাপ্তাহিক বেতনও কমেছে বলে জানিয়েছে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা।

সূত্র: দি নিউইয়র্ক টাইমস