কিছুদিন আগেই ঢাকায় এসেছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমা আছে মুক্তির অপেক্ষায়। সিনেমার নাম ‘স্পর্শ’। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের অনন্য মামুন ও কলকাতার অভিনন্দন দত্ত। এ সিনেমার শুটিং করতেই ঢাকায় আসেন ঋতুপর্ণা। এতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বিপরীতে দেখা যাবে বাংলাদেশের নিরব হোসেনকে।
টানা কয়েকদিন স্পর্শ সিনেমার শুটিং শেষ করে ফিরে যান ঋতুপর্ণা। এর আগে সিনেমাটির শুটিংয়ের প্রথম পর্ব হয়েছিল কলকাতার বিভিন্ন লোকেশনে। ঢাকায় শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে এ সিনেমার শুটিং শেষ হলো। এখন অপেক্ষা মুক্তির। এ নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘প্রত্যেক সিনেমাই আমার কাছে নতুন পরীক্ষার মতো। গল্প, নির্মাণ, শিল্পীদের অভিনয় সব মিলিয়ে স্পর্শ খুব ভালো একটি সিনেমা হয়েছে। আমি খুব আশাবাদী সিনেমাটি নিয়ে। আর নিরবের সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রি দর্শকের ভালো লাগবে বলে আশা করছি। আমার কাছে যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় অভিনয় করতে ভীষণ ভালো লাগে। কারণ দুই বাংলার দর্শকের সিনেমাটি দেখার সুযোগ থাকে। দুই বাংলার দর্শক যেন স্পর্শ দেখার সুযোগ পান তাড়াতাড়ি—এ অপেক্ষায়ই আছি আমি। আমার বিশ্বাস দুই বাংলায়ই সিনেমাটি ভালোবাসা পাবে।’
স্পর্শতে ঋতুপর্ণাকে দেখা যাবে ইন্দিরা চরিত্রে। যিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী। ভীষণ আবেগি একজন নারী। একজন সিঙ্গেল মাদার। ভীষণ একাকিত্বের মাঝেও যিনি নিজেকে মানুষের জন্য নিবেদিত করতে চান। আবার তার মধ্যে প্রেমও আছে। এমন একটি চরিত্রে অনন্য মামুনের ভাষায় ঋতুপর্ণা দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। স্পর্শ সিনেমার কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন অনন্য মামুন। ‘অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট’ ও ‘রোল ক্যামেরা অ্যাকশন’ প্রযোজনা করছে স্পর্শ।
সিনেমাটি প্রসঙ্গে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন নিরব হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আমি বলব স্পর্শের গল্পটা অনেক সুন্দর। সিনেমাটি নিয়ে আলাদা ভালো লাগা কাজ করছে আমার মধ্যে। আর সবচেয়ে বড় কথা অনেক দিন পর জয়েন্ট ভেঞ্চার সিনেমা হলো। দর্শক, চলচ্চিত্রপ্রেমী যারা আছেন, তাদের কাছে জয়েন্ট ভেঞ্চার সিনেমা মানেই বড় বাজেট আর অনেক ভালো প্রডাকশন। সব মিলিয়ে আমারও মনে হয় স্পর্শ তেমনি একটি প্রজেক্ট হবে। আশা করছি ভালো কিছু হতে যাচ্ছে আর দর্শক নিরাশ হবে না।’
শুটিংয়ে অংশ নেয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি ক্লাবে ঢাকাই সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় মাতেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, নিরব হোসেন ও অনন্য মামুন। সেখানে সিনেমাসংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা বলেন তারা। নিরবের সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘এ দেশের সিনেমার সঙ্গে অনেক আগে থেকেই আমি কাজ করেছি। কয়েকটি সুপারহিট সিনেমায় কাজ করেছি। বাংলাদেশের অনেক নায়কের সঙ্গে কাজ করেছি। সবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এখন নিরবের সঙ্গে কাজ করছি। অভিনয়ের বাইরেও ও একজন খুব ভালো মানুষ। অনেক হিরোই কেবল নিজেকে হিরো হিসেবে দেখাতে চায়। কিন্তু নিরবের ভেতর দেখেছি সে প্রডাকশনের অনেক খুঁটিনাটির সঙ্গে যুক্ত থাকে। এটা অনেক ভালো লাগে। খুব ভালো অভিনয় করে নিরব। সামনে আরো ভালো কাজ করবে। সামনে অনেক সময় পড়ে আছে। ওর ভবিষ্যৎ অনেক ভালো দেখছি।’
এতে আরো অভিনয় করেছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। এ সিনেমার মাধ্যমে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আরিয়ানা জামানের।
১৯৯৫ সালে ‘শ্বেতপাথরের থালা’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় ঋতুপর্ণার অভিষেক। বাংলাদেশে ‘সাগরিকা’, ‘স্বামী ছিনতাই’, ‘রাঙা বউ’, ‘একটি সিনেমার গল্প’সহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। চলতি বছরে দেশে মুক্তি পেয়েছে একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা। নব্বইয়ের দশক থেকেই বাংলাদেশ আর ভারতের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ হয়ে আসছে। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ কিংবা ‘মনের মাঝে তুমি’সহ অনেক দুর্দান্ত সিনেমা এ দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ হয়েছে। এবার দেখার পালা মুক্তির অপেক্ষায় থাকা স্পর্শ দুই দেশের মানুষের মন জয় করতে পারে কিনা।










