বলিউডে একের পর এক রিমেক হচ্ছে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা। এ প্রবণতা নতুন নয়। সালমান খানের ওয়ান্টেড, বডিগার্ড, অক্ষয় কুমারের রাউডি রাথোর, হলিডে এমনকি আমির খানের গজনীও দক্ষিণী সিনেমার রিমেক। সে সময় সিনেমাগুলো ভালো করেছিল বক্স অফিসে। কিন্তু এখন আর রিমেক থেকে ভালো আয় হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ দর্শক এখন দক্ষিণী সিনেমা আগে থেকেই দেখে অভ্যস্ত। পাশাপাশি তারা অনলাইনে (এমনকি ইউটিউবে) দেখতে পারেন ব্যবসাসফল দক্ষিণী সিনেমার ডাব করা ভার্সন। ফলে রিমেক থেকে আগ্রহ উঠে যাচ্ছে দর্শকের। সম্প্রতি এ নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী রাশি খান্না। তিনি মনে করেন নির্মাতাদের নতুন করে চিন্তা করা উচিত।

হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রাশি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই রিমেক দেখছি। অনেকটা অভ্যস্তই হয়ে গেছি বলা যায়। কিন্তু আমার মনে হয়, কনটেন্ট নিয়ে নির্মাতাদের নতুন করে চিন্তা করা উচিত। কেননা দক্ষিণের সিনেমা তো এখন অনলাইনেই দেখা যায়।’

শুধু অনলাইনে না, দক্ষিণের সিনেমা এখন হিন্দি ভাষায়ও মুক্তি দেয়া হয়। ১০ বছর আগেও এ চল ছিল না। হিন্দিভাষী অঞ্চলে বড় পরিসরে মুক্তি পেত না দক্ষিণের সিনেমা। কিন্তু এখন পায়। টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হয় দক্ষিণের সিনেমার ডাব ভার্সন। ভাষা এখন আর কোনা বাধা না। এ নিয়ে রাশি বলেন, ‘ওটিটি তো এখন দারুণ জনপ্রিয়। ভাষা আর কোনো বাধা নয়। দর্শক সব ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে পরিচিত। তাই আমার মনে হয় নির্মাতাদের এখন নিজস্বতা বাড়ানো দরকার। মূলত নতুন ধারার কনটেন্ট প্রয়োজন বলিউডে।’

রাশি খান্নার অভিষেক হয় ২০১৩ সালে মাদ্রাজ ক্যাফে সিনেমার মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি এখন তামিল, তেলেগু ও হিন্দি সিনেমার সফল অভিনেত্রী। উত্তর ও দক্ষিণ উভয় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশি বলেন, ‘সাধারণ একটা বিষয় হলো যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিই চায় সেরা সিনেমা উপহার দিতে। ভাষা ছাড়া একটা বিষয় ভিন্ন মনে হয়, দুই ইন্ডাস্ট্রির সংস্কৃতি কিছুটা আলাদা। সবাই তার সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে সিনেমায় কাজ করতে চায়। দক্ষিণের সিনেমায় এটা বেশি দেখা যায়। কিন্তু বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রির সিনেমার প্যাশন দেখে বোঝা যায় আলাদা হয়েও এক জায়গায় তারা একই রকম।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস