জনপ্রিয় নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। তবে তাকে কখনো দেখা যায়নি অভিনয়ের আঙিনায়। সত্তরের দশকে প্রয়াত পরিচালক আজমল হুদা মিঠু তাকে বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানে দেখে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কালজয়ী সিনেমা সূর্য দীঘল বাড়ির প্রধান একটি চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দেন তিনি। এমনকি সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাকে অভিনয় করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গান ছাড়া ফেরদৌস আরা আর কিছুই ভাবেননি কখনো। এবার তিনি তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছেন। অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছেন। তবে সাধারণ নাটক কিংবা সিনেমায় অভিনয় করতে চান না। অভিনয় ভাবনা নিয়ে এ নজরুল সংগীত শিল্পী বলেন, ‘সারা জীবন কাজী নজরুল ইসলামের গান নিয়ে কাজ করেছি। জাতীয় কবির প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা সব সময় কাজ করে। তাই নজরুলবিষয়ক কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে, সেই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকলে তাতে অভিনয় করার আগ্রহ আছে আমার। আমি জানি না আমার এ ইচ্ছে পূরণ হবে কিনা। তবে আমার মনে হয় নজরুলের জীবন নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে, তাতে অভিনয় করার সুযোগ পেলে আমি শান্তি পাব।’

ফেরদৌস আরা ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৫ সালে সারগাম থেকে ১২টি গান নিয়ে প্রথম ক্যাসেট এবং এর পর পরই হারানো দিনের গানের ক্যাসেট-সিডি ‘আকাশের মিটি মিটি তারা’ ব্যাপক সমাদৃত হয়। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর পঞ্চম ফোক উৎসবে ৫২টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্পীদের মধ্যে ফেরদৌস আরা ‘দ্য বেস্ট ভোকালিস্ট’ হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নজরুল ইনস্টিটিউটে একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তিনি গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন।