নবীন শিল্পীদের জন্য আবাসিক বৃত্তি (জাতীয় পর্যায়) প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে কলাকেন্দ্র। এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে ‘সান্নিধ্য’। ঢাকার শিল্পচর্চা ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর উদ্দেশে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানালেন কলাকেন্দ্রের কিউরেটর শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।

সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে (ঢাবি, জবি, ইউডা ও এসএমইউসিটি ব্যতীত) সদ্য শিক্ষা সমাপ্ত শিল্পীদের প্রতি কলাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে মুক্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এক মাসব্যাপী এ আবাসিক বৃত্তির আওতায় শিল্পীরা ঢাকায় কলাকেন্দ্রে থাকতে পারবেন, কাজ করবেন, তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনাগুলো বিকশিত করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তারা ঢাকার চিত্রশালা, চিত্র প্রদর্শনী, প্রচার মাধ্যম, শিল্প সমালোচক ও সংগ্রাহকদের সম্পর্কে ধারণা পাবেন। অবস্থানরত শিল্পীদের শিল্প-ভাবনা ও কর্ম প্রক্রিয়া বিশিষ্ট শিল্পীদের দ্বারা কলাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। দেশের শিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য পড়াশোনা শেষ করা শিল্পীরাই (২০১৯-২০২০) এ সুযোগ পাবেন।

নতুন এ উদ্যোগের বিষয়ে কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান টকিজকে বলেন, আমাদের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকার আর্টিস্টদের সঙ্গে তরুণ আর্টিস্টদের পরিচয় করিয়ে দেয়া। গ্যালারিগুলোর সঙ্গে পরিচয় করানো, প্রদর্শনী দেখানো এবং আমাদের কলাকেন্দ্রের সঙ্গে যারা জড়িত যেমন—আর্টিস্ট নিসার হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, ঢালি আল মামুনসহ আরো যারা আছেন তাদের দিয়ে সেসব তরুণদের কাজগুলো দেখানো, তরুণদের নির্দেশনা দেয়া। এজন্য ঢাকার বাইরের শিল্পীদের জন্য এ রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত করা।

শিল্পী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে শিল্পীদের পাঠানো আবেদন দেখে ছয়জন তরুণ শিল্পীকে বাছাই করা হবে। প্রথমাবস্থায় আমরা ছয় শিল্পীকে এ সুবিধা দেব।’ জুরি বোর্ডে কারা থাকতে পারেন? ‘কলাকেন্দ্রে যেসব শিল্পী শুরু থেকেই সদস্য হিসেবে আছেন এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতাকারী একটি প্রতিষ্ঠান জুরি হিসেবে থাকবে’—ওয়াকিলুর রহমান বলেন।

আগামীতেও এ উদ্যোগ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান ওয়াকিলুর রহমান। তার মতে, এটা এক ধরনের নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব আগামীতে কীভাবে এগোনো যায়। আমরা চেষ্টা করব আবাসিক বৃত্তি প্রদানের এ ব্যবস্থাকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আমাদের একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুজন করে আর্টিস্টকে একসঙ্গে রেখে একটা জার্নি করানো।

আবাসিক বৃত্তির অধীনে নির্বাচিত শিল্পীরা যেসব সুবিধা পাবেন: মাসব্যাপী আবাসন ব্যবস্থা, কাজ করার স্থান, খাবার ও অন্যান্য সুবিধা, প্রয়োজনীয় শিল্পচর্চার সামগ্রী, যাতায়াত ও যোগাযোগ, ঢাকার শিল্পচর্চার ধরন ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ, কলাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পোর্টফলিও পাঠ ও কলাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে শিল্পীদের উপস্থাপনা। আবেদন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। আগামী মার্চের প্রথমেই এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে ওয়াকিলুর রহমান জানান।