নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের গল্পটি শহরতলির সদ্য
কৈশোরোত্তীর্ণ সহজ-সরল এক তরুণের। ভালোবাসার
মানুষটিকে জয় করার জন্য এমন কোনো কৌশল নেই, যা সে প্রয়োগ করেনি। কিন্তু সে কি সফল হয়? ১৯৯৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘কাভি হাঁ কাভি না’ সিনেমাটি যারা দেখেছেন, তাদের তো এ উত্তর জানা। আর যারা দেখেননি, তারা ঝটপট দেখে ফেলতে পারেন।
ভারতের ৩৯তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে সমালোচকদের চোখে সেরা
সিনেমার পুরস্কার লাভ করেছিল রোমান্টিক-কমেডি সিনেমা ‘কাভি হাঁ কাভি না’। আর এতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করে সেরা অভিনেতার খেতাব
পেয়েছিলেন বলিউডের পাঠান। বোকা তরুণ সুনীলের চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন
শাহরুখ খান। মিষ্টি চেহারা ও নিষ্পাপ অভিব্যক্তির সুনীলকে দর্শক সহজেই আপন করে
নেয়। নব্বইয়ের দশকের টিনেজদের আদর্শে পরিণত হয় সে।
বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছিল সিনেমাটি। মাত্র ১ কোটি ৪০
লাখ রুপি ব্যয়ে নির্মিত এ সিনেমা সে সময় মোট ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছিল। প্রয়াত
কুন্দন শাহ (মৃত্যু: ৭ অক্টোবর, ২০১৭) পরিচালিত এ সিনেমায়
গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়ে ছিলেন দীপক তিজোরি, নাসিরউদ্দিন শাহ ও সুচিত্রা
কৃষ্ণমূর্তি।
সময় বয়ে যায়। এর মধ্যে শাহরুখ খান অসংখ্য ব্যবসাসফল ও
দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। হাল সময়ে পাঠানের পারফরম্যান্স তো আগের সব
রেকর্ডকে ভেঙ্গেই দিল। তবু প্রায় তিন দশক আগে অভিনয় করা ‘কাভি হাঁ কাভি না’ সিনেমার কথা ভোলেননি বলিউডের
বাদশাহ। সুনীলের কথাও বিস্মৃত হননি। তাই রবিবার সিনেমাটির ২৯ বছর পূর্তি উদযাপন করেছেন কিং খান। স্মরণ
করেছেন সুনীলকে।
‘কাভি হাঁ কাভি না’ সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা
প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাহরুখ টুইট করেন, ‘সে সময়ে... সে বয়সে... নিখাদ... অনিয়ন্ত্রিত... কোনো চাতুর্য নেই...
ভারতের সেরা সব কলাকুশলী দিয়ে পরিবেষ্টিত।
আর এমন একজন পরিচালক, যার অভাব আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি।
এ সিনেমা আমাকে শিখিয়েছে, কখনো তাৎক্ষণিকভাবে তুমি হেরে যাবে... কিন্তু একসময় সবকিছুই জিতবে... আমি নিশ্চিত, অন্য কোথাও, অন্য কোনো জগতে সুনীলও তার প্রাপ্য বুঝে পাবে!’ এ টুইটে সিনেমা ও সম্পূর্ণ টিমকে ঘিরে শাহরুখের আবেগ
সুস্পষ্ট। এর জন্য তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।
২০১৫ সালে রেডিফডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সিনেমা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছিলেন এর পরিচালক কুন্দন শাহ।
তিনি জানান, সীমিত বাজেটের মধ্যে সিনেমাটির কাজ
শেষ করতে হয়েছিল। শুটিংয়ের সময় শাহরুখ খান ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতেন। তিনি বলেন, ‘বাজেট এত অল্প ছিল যে আমরা কোনো আয়েশের ব্যবস্থা করতে
পারিনি। একবার আমরা ইকোনমি ক্লাসে মুম্বাই যাচ্ছিলাম। একই ফ্লাইটে দেবেন ভার্মাও
ছিলেন। তিনি বিজনেস ক্লাসে যাচ্ছিলেন। দেবেন ভার্মা শাহরুখের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
শাহরুখকে ইকোনমি ক্লাসে যেতে দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। শাহরুখ
সবিনয়ে উত্তর দিলেন, “আমার টিকিট ইকোনমি ক্লাসের”।’ কুন্দন শাহ আরো জানান, শুটিং চলাকালীন যেসব গেস্ট হাইজে তারা ছিলেন, সেগুলোও ছিল কোনো রকমে কাজ চালানোর মতো। কিন্তু শাহরুখ খান
চমৎকারভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










