তিন দশকের ক্যারিয়ারে কয়েক ডজন সফল অ্যালবাম, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শো উপহার দেয়া গায়িকা ও অভিনেত্রী কোকো লী আর নেই। হংকংয়ে জন্ম নেয়া এই গায়িকা গতকাল বুধবার (৫ জুলাই) মারা গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা দিয়েছেন তার বোন ক্যারল ও ন্যানসি। খবর সিএনএন।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন কোকো। গত ২ জুলাই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাকে কোমা থেকে ফেরানো যায়নি। সেখানেই মারা যান ৪৮ বছর বয়সী গায়িকা।

আরো বলা হয়, চলতি বছর ছিল কোকোর ক্যারিয়ারের ৩০তম বার্ষিকী। তার গান সর্বোচ্চ বিক্রির পাশাপাশি অগণিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জিতেছে। তার দুর্দান্ত লাইভ পারফরম্যান্স শ্রোতাদের মনে বিস্ময়কর ছাপ রেখে গেছে।

পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়ে ক্যারল ও ন্যানসি লেখেন, যদিও কোকো পৃথিবীতে বেশিদিন থাকেননি, তবে তার আলোর রশ্মি চিরকাল থাকবে!

কোকো লী বেড়ে উঠেন যুক্তরাষ্ট্রে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে হংকং-এ ফেরার পর একটি গানের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। যা তাকে সংগীত জগতের দিকে এগিয়ে দেয়। ১৯৯০ এর দশক জুড়ে এশিয়ার অন্যতম পরিচিত গায়িকা হয়ে উঠেন। ইংরেজি, ম্যান্ডারিন ও ক্যান্টনিজ ভাষায় তার লাখ লাখ অ্যালবাম বিক্রি হয়।

হিপহপের সঙ্গে যুক্ত আরঅ্যান্ডবির সংমিশ্রণ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুলান’-এর ম্যান্ডারিন সংস্করণে ডিজনির বিখ্যাত চরিত্র ফা মুলানের জন্য কণ্ঠ দেন।

এরপর ২০০০ সালের হিট ফিল্ম ‘ক্রুচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন’ যা তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতির দিকে নিয়ে যায়। এ মার্শাল আর্ট অ্যাডভেঞ্চার মুভিতে রোমান্টিক ব্যালাডধর্মী ‘আ লাভ বিফোর টাইম’ গানটি তার খ্যাতি বাড়িয়ে। মার্কিন বলয়ে মিশেল ইয়োহ-এর মতো নায়িকাদের সঙ্গে কোকো লীর নাম উচ্চারিত হতে থাকে। ২০০১ সালের অস্কার মঞ্চ বিখ্যাত গানটি পরিবেশন করেন তিনি।

সাম্প্রতিক বছরে চীনা টেলিভিশনে গানের প্রতিযোগিতা ‘ইনফিনিটি অ্যান্ড বিয়ন্ড’ ও ‘সিঙ্গার’সহ বেশ কিছু শোতে তাকে দেখা গেছে।

ইনস্টাগ্রামে কোকো লীর শেষ পোস্ট ছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে দেয়া। সেখানে বলেছিলেন, ২০২২ সাল ছিল অবিশ্বাস্যরকম কঠিন বছর। তবে ভক্তদের ইতিবাচক থাকার ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। ‘আপনি একা নন, জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, আমি সঙ্গে আছি’- এ কথা লিখলেও শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কোকো লী নিজেই।