দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, কীভাবে তার মানসিকতা ও জীবনে নানা বিষয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারগুলো পরিবর্তন করেছেন। বিশেষ করে মায়োসাইটিস নামক অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এটি ঘটেছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ৫২তম ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট কনভেনশনে বক্তব্য রাখার সময় সামান্থা জানান, এখন তিনি আর সিনেমাজগতে শীর্ষে থাকার চাপ অনুভব করেন না এবং আরো ভারসাম্যপূর্ণ জীবনে তিনি শান্তি খুঁজে পেয়েছেন।

এর আগে তিনি ক্রমাগত অনিরাপদ বোধ করতেন। তার মনে হতো যেকোনো সময় তিনি নিজের জায়গা হারাবেন। তিনি বলেন, ‘আগে আমি বছরে হয়তো পাঁচটা সিনেমায় অভিনয় করতাম। কারণ সেটাকেই একজন সফল অভিনেতার মানদণ্ড ধরা হতো। তখন দরকার ছিল একাধিক সিনেমা, বড়সড় ব্লকবাস্টার ও শীর্ষ ১০ অভিনেতার তালিকায় নাম থাকা। বড় বড় বহুজাতিক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করতে হতো।’

সামান্থা জানান, গত দুই বছরে তার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি এবং তিনি আর সে তালিকাগুলোয় নেই। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে এখন সবচেয়ে সুখী মনে করেন। সামান্থা তার বর্তমান পরিস্থিতি বা অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘আমার কোনো ১ হাজার কোটির সিনেমা নেই, কিন্তু আমি সত্যিই এখন সন্তুষ্ট। আগে আমার মূল্যায়ন নির্ভর করত বক্স অফিসের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর। আমি খুব ভঙ্গুর ছিলাম। প্রতিটা শুক্রবার আমার কাছে আতঙ্ক নিয়ে আসত। ভয় হতো কেউ আমার জায়গা নিয়ে নেবে। সাফল্য এলে পরদিনই ভুলে যেতাম, কিন্তু ব্যর্থতা এলে সেটা অনেক দিন থেকে যেত।’

এখন ৩৮ বছর বয়সে সামান্থা সচেতনভাবে নিজের সুস্থতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তার জীবনে অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে একটি ‘কৃতজ্ঞতার ডায়েরি’ (যেখানে জীবনের ভালো ঘটনাগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন) লেখা শুরু করার মাধ্যমে। সামান্থা বলেন, ‘এক বছর ধরে কৃতজ্ঞতার ডায়েরি লেখা আমার পুরো ব্যক্তিত্বটাই পাল্টে দিয়েছে। আগে আমি সবসময় ভাবতাম, কী ভুল হতে পারে বা কীভাবে আমি কিছু নষ্ট করে ফেলতে পারি। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতার প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে।’

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি সামান্থা এখন স্বাস্থ্যসচেতন বিভিন্ন উদ্যোগে বিনিয়োগ করছেন। তার পডকাস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কনটেন্ট তৈরি করছেন। তিনি স্বীকার করেন, অনেক মানুষ তাকে ফলো করেন তার চলচ্চিত্র ও গ্ল্যামারাস ইমেজের জন্য। তবে তিনি আশা করেন, তার স্বাস্থ্যভিত্তিক যাত্রা থেকেও অনেকে মূল্যবান তথ্য পেতে পারেন।

এ নিয়ে সামন্থা বলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা জানবেন কোথায় যেতে হবে। আমার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অন্যদের সে অসহায় অনুভব থেকে রক্ষা করা, যেটা আমি একসময় অনুভব করেছিলাম। আমি চাই না কেউ সেটা অনুভব করুক।’

সত্যিকারের আত্মপ্রকাশ এবং স্বাস্থ্য ও কৃতজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে সামান্থা রুথ প্রভু এখন বেছে নিয়েছেন এক মাটির কাছাকাছি, পরিতৃপ্ত জীবন—যেটা আর নির্ধারিত নয় প্রতিযোগিতা কিংবা বাইরের স্বীকৃতির মাধ্যমে।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা