বেল্লামকোণ্ডা সাই শ্রীনিবাস। নামটি শুনলে হয়তো আপনার চোখে একজন দক্ষিণী অভিনেতার ছবি ভেসে ওঠে, যে বলিউডে অভিষেকের অপেক্ষা করছে। এসএস রাজামৌলির ছত্রপতির রিমেকে তাকে দেখা যাবে। অথবা নামটি শুনলে আপনি একজন প্রেমিকের কথা ভাবতে পারেন। রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে যার প্রেমের গুঞ্জন চলছে। যাই হোক, শ্রীনিবাসের এমন আরো অনেক পরিচয় আছে। ইউটিউবে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আছে বড় ফ্যানবেজ। এ দারুণ জনপ্রিয়তা ও বিশাল ফ্যানবেজকে পুঁজি করেই বলিউড জয়ের দিকে পা রেখেছেন তিনি। সাফল্য বা ব্যর্থতা সময়েই জানা যাবে। তবে তিনি অন্যান্য দক্ষিণী তারকার তুলনায় ব্যতিক্রম।
ইউটিউবের জনপ্রিয়তাকে সম্বল করে বলিউডে অভিষেক হচ্ছে শ্রীনিবাসের। এর আগে দুই তেলেগু অভিনেতা রানা দাগুবতী ও বিজয় দেবরকোণ্ডা হিন্দি সিনেমার জগতে প্রবেশ করেছেন। ‘লিডার’ সিনেমার মাধ্যমে তেলেগু সিনেমায় রানা দাগুবতীর অভিষেক ঘটেছিল। তার পরের বছরই খুব সহজে বলিউডে গ্রহণযোগ্যতা পান তিনি। ২০১১ সালে ‘দম মারো দম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক ঘটেছিল। আর সুপারহিট সিনেমা ‘অর্জুন রেড্ডি’ দিয়ে সারা ভারতে ঝড় তুলেছিলেন বিজয় দেবরকোণ্ডা। দর্শকদের ক্রেজে পরিণত হন তিনি। তারই ভিত্তিতে ২০২২ সালে ‘লাইগার’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে তার জমকালো অভিষেক ঘটে। তামিল অভিনেতা মাধবন, সিদ্ধার্থ ও ধানুষও বেশ কয়েকটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
বলিউডে মাধবনের বড় ফ্যানবেজ আছে। ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমা দিয়ে তিনি প্রথম বলিউড ভক্তদের মাঝে সাড়া ফেলেছিলেন। তারপর একে একে ‘রঙ দে বাসন্তি’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘তানু ওয়েডস মানু’র মতো সিনেমাগুলো তার জনপ্রিয়তাকে উত্তরোত্তর বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ‘রানঝানা’ ও ‘শামিতাভ’ নামক দুটি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক মনে ছাপ ফেলেছেন ধানুষ। মালয়ালম তারকা পৃথ্বীরাজ সুকুমারও কয়েকটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আরেক মালয়ালম তারকা দুলকর সালমানও হিন্দি সিনেমার জগতে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
কিন্তু এসব দক্ষিণী অভিনেতাদের তুলনায় শ্রীনিবাস ব্যতিক্রম। বলিউডে অভিষেকের সময় এসব অভিনেতা নিজ নিজ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন। যখন ভালো কোনো প্রজেক্ট তাদের হাতে এসেছে, তখনই কেবল তারা বলিউডে গিয়েছেন। অন্যদিকে শ্রীনিবাসের ঝুলিতে আছে মাত্র আটটি সিনেমা। তার মধ্যে মাত্র একটি বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পেয়েছে। সিনেমাগুলো হিন্দিতে ডাবিং করে ইউটিউবে মুক্তি দেয়া হয়েছে। কোনো এক অজানা কারণে ডাবিং করা সিনেমাগুলো ইউটিউবে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এমনকি ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া সিনেমাটি তারই। শ্রীনিবাস অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘জয়া জানকী নায়কা’র ডাবিং ভার্সন ৭০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। ‘সীতা’ ও ‘কাবাচাম’ নামক সিনেমা দুটি যথাক্রমে ৬০ কোটি ও ৪০ কোটি ভিউ পেয়ে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ১০টি সিনেমার তালিকায় আছে। এ কারণেই সম্ভবত পেন মুভিজ বিপুল ব্যয়ে তার ছত্রপতি প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছে।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










