থিয়েটারে সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে দর্শকের পছন্দ বদলাচ্ছে। তারা কখনই ‘স্লো’ সিনেমা দেখতে চায়নি। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ছিল অ্যাকশন সিনেমা। কিন্তু অরিজিনাল অ্যাকশন সিনেমা থেকে মনোযোগ কমে গিয়েছিল একটা সময়। তা ফিরে এসেছে আবার। সুপারহিরো সিনেমার তুলনায় এ অরিজিনাল অ্যাকশন সিনেমায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। জন উইক: চ্যাপ্টার ফোর সে কথাই প্রমাণ করল। সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে ভালো আয় করেছে। মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে সিনেমাটি আমেরিকার বাইরে ৭৬টি স্থান থেকে আয় করেছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের মতো। এ নিয়ে সিনেমাটির ওভারসিজ আয় ১৮ কোটি ৯৬ লাখের কাছাকাছি। এ পর্যন্ত সিনেমাটির মোট আয় ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।
জন উইক: চ্যাপ্টার ফোরের এ সাফল্য বেশ বড় ব্যাপার। কেননা অতিমারীর আগে মুক্তি পাওয়ার জন উইক: চ্যাপ্টার থ্রির মোট আয় ৩৩ কোটি ডলারের কাছাকাছি। অতিমারীর আগে বাজার ভালো থাকাকালীন অ্যাকশন সিনেমার বাজারের তুলনায় এখন বাজার বেড়েছে, সে কথাই প্রমাণ করছে জন উইক: চ্যাপ্টার ফোর। সিনেমাটি কোরিয়ায় প্রায় ৬০ লাখ (আগের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি), যুক্তরাজ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ, জার্মানিতে ১ কোটি ৬৯ লাখ, অস্ট্রেলিয়ায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ও মেক্সিকোয় ১ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করেছে। প্যারামাউন্টের ‘ডাঞ্জনস অ্যান্ড ড্রাগনস’ আমেরিকার বাইরে আয় করেছে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সিনেমাটির মোট আয় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্য সময়ের তুলনায় বেশ ভালো।
এছাড়া নতুন রেকর্ড করেছে নিনটেনডোর ‘সুপার মারিও ব্রোস’। সিনেমাটি এরই মধ্যে অ্যানিমেশন সিনেমার ক্ষেত্রে বেশকিছু রেকর্ড ভেঙেছে। এছাড়া ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেশনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে থাকছে। রোববারের হিসাব অনুসারে সিনেমাটির মোট বৈশ্বিক আয় প্রায় ৬৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এ সপ্তাহেই সিনেমাটি ৭০ কোটি ডলার আয় করে ফেলবে বলে মনে করছেন বক্স অফিস বিশ্লেষকরা। কাছের অতীতে তাকালে অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেম থেকে রূপান্তর করা সিনেমার ক্ষেত্রে এত ভালো আয় করা কোনো সিনেমায় চোখে পড়ে না। এ বছর এখন পর্যন্ত বক্স অফিসে দুর্দান্ত আয় করা সিনেমার সংখ্যা কম। সেক্ষেত্রে বক্স অফিসকে ভালোই ভরসা দিচ্ছে সুপার মারিও ব্রোস। অনেকে একে এখন পর্যন্ত বছরের সেরা সিনেমা বলছেন।
অন্যান্য অনেক সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা গেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয় পড়ে যায়। কিন্তু জন উইকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। সুপার মারিও ব্রোসের ক্ষেত্রেও সে সম্ভাবনা কম। তাই বছরের চার মাসে শেষে অ্যাকশন ও অ্যানিমেশনেই বক্স অফিসের স্বস্তি।
সূত্র: ডেডলাইন










