রুপালি পর্দার পাশাপাশি নাটক ও বিজ্ঞাপনেও দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন মাহফুজ আহমেদ। আট বছর পর ‘প্রহেলিকা’ দিয়ে বড় পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি ‘‌মনা’ হয়ে। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী 

প্রহেলিকায় আপনি বেশ রহস্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। এমন চরিত্র আপনাকে কেন টেনেছে?

মানুষের জীবনটাই তো রহস্যে ঘেরা। জীবনের প্রতিটা স্তরে স্তরে রহস্য। সমুদ্র যেমন অতল, কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি মানুষের জীবনও বিচিত্র ও রহস্যময়। একজন অভিনেতা সবসময় বৈচিত্র্য খোঁজেন। মনা চরিত্রটা আমার কাছে এমনই বৈচিত্র্যময় লেগেছে। এমন চরিত্র সাধারণত বেশি পাই না। অনেকগুলো স্তর আছে এর মধ্যে। সব মিলিয়েই এর রহস্য আমাকে টেনেছে প্রহেলিকায়। অভিনয় করে আমি অনেক আনন্দ পেয়েছি। এছাড়া এর গল্প নির্মাণ, সংলাপ ও চরিত্রগুলোর উপস্থাপন একটু ভিন্নভাবে উঠে এসেছে। যার কারণে পুরো সিনেমাটাই একটা রহস্যে ঘেরা।

‘‌মনা’ হয়ে ওঠার প্রস্তুতি পর্ব কেমন ছিল?

প্রহেলিকার গল্প ও চরিত্র আর ১০টা চরিত্রের মতো নয়। সেক্ষেত্রে আমার যথেষ্ট সময় লেগেছে মনা হয়ে উঠতে। আমি বারবার চিত্রনাট্য পড়েছি, নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেছি। যিনি গল্পটা লিখেছেন, তার সঙ্গেও কয়েকবার কথা বলেছি চরিত্রটা নিয়ে। অনেক কিছু বাদ গেছে, অনেক কিছু যোগ হয়েছে। এসব করতে গিয়েই গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে আমি মিশে যাই এবং বুঝতে পারি যে আমি আসলে মনার মধ্যে ডুব দিয়েছি। শুটিং চলাকালীন ও শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক মাস আমার জীবনটা মনাময় ছিল, আমার মনে হয়েছে আমি মনার মধ্যেই বাস করছি। 

সিনেমাটি বেশ সাড়া পেয়েছে। এখন দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি কী শুনতে হচ্ছে?

ইন্টারেস্টিং লাগছে যে মা, বোন, দিদি, মাসিমারা সিনেমাটা দেখছেন এবং তাদের ভালোবাসা জানাচ্ছেন আমাকে। কয়েকবার আমি হলে গিয়ে যখন সিনেমাটা দেখেছি, উনারা মাথায় হাত রেখে বলেছেন, ‌‘‌আমি আমাদের হিরোকে ছেলে-মেয়ে নাতিপুতিদের দেখাতে এসেছি’। আমি তো দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে। আমাকে যে মানুষ একটু হলেও তাদের মনের কোণে স্থান দিয়ে রেখেছে, আমি বুঝতে পারিনি। যদি আমি প্রহেলিকার সঙ্গে যুক্ত না হতাম, তাহলে আমি হয়তো বুঝতেই পারতাম না ভালোবাসা আসলে থেকে যায়। আমি মাথা নত করে দর্শকের ভালোবাসা গ্রহণ করেছি এবং আমার সবসময় মনে থাকবে মানুষের এ প্রতিক্রিয়া। সব বয়সের মানুষ সিনেমাটা দেখছে। আমি দেখলাম যে ১৫-১৬ বছরের ছেলে-মেয়েরাও প্রহেলিকা দেখতে এসেছে। কারণ ওরা বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটির কাজগুলো দেখছে। ওরা জানে ফিল্মের ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন হয়। 

আট বছর পর বড় পর্দায় ফিরলেন। কেন এ বিরতি?

কারণ আমি আমার মনের মতো চরিত্র ও গল্প পাচ্ছিলাম না। তাই আর অভিনয় করতে ইচ্ছে হয়নি। সেটা পেয়ে গেলে বিরতিতে যেতাম না। 

আপনি নিজেও তো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজে কেন সিনেমা বা নাটক নির্মাণ করলেন না?

আমি আসলে যখন নিজের মনের মতো চরিত্র পাই না, তখন ক্লান্তি বোধ করি। তারপর দূরে সরে যাই। এর আগে একবার এমন হয়েছিল, তখন আমি নিজের উদ্যোগে জিরো ডিগ্রি সিনেমাটা করি। আলহামদুলিল্লাহ, এর মধ্য দিয়ে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এটা বিশাল সম্মানের বিষয়। কিন্তু সিনেমাটা আমরা যেভাবে করতে চেয়েছিলাম, সেটা নানা কারণে হয়নি। যার জন্য আমি আসলে সরে গিয়ে অপেক্ষা করেছি এ কয়েক বছর। 

বর্তমানে ভিন্নধারার গল্পের কাজ হচ্ছে। এখন অভিনয় নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?

হ্যাঁ, এখন ইচ্ছা আছে বছরে নিয়মিত একটা-দুইটা কাজ করার। কিন্তু তার মানে এই না যে বছরজুড়েই কাজ করব। তবে কথা একটাই যে গল্প ও চরিত্র পছন্দ হতে হবে। মনের মতো গল্প না পেলে কাজ করব না। 

আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনার ভাবনা...

আমি স্বপ্ন দেখি নতুনরা আসবে। তারা আমাদের চলচ্চিত্রকে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাবে। এখন অনেক নতুনরা খুব ভালো কাজ করছে। আজকে কোরিয়ান, চাইনিজ, ইরানি সিনেমাগুলো যে জায়গায় চলে গেছে, আমাদের দেশের তরুণরাও সিনেমাগুলোকে সে জায়গায় নিয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমরা সে ইঙ্গিত পাচ্ছি। আমাদের দেশের যে তরুণ নির্মাতারা আছেন, তারা আসলে বিশ্বমানের কনটেন্ট নির্মাণে যথেষ্ট উপযুক্ত। ওটিটি প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে আমরা সেটা বুঝতে পারছি। ওটিটিতে এমন কিছু কাজ হচ্ছে, যার নির্মাণ একদম ওয়ার্ল্ড ক্লাস। এটা বরাবরই বলে আসছি, আমি স্বপ্ন দেখি যে কোনোদিন ঘুম থেকে উঠে দেখব আমাদের চলচ্চিত্র অস্কার পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরা একটা সময় এ স্বপ্ন পূরণ করবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই।