মার্ভেল যাদের হাতে শুরু হয়েছিল তাদের একজন ডেভিড মেইসেল। তিনি মার্ভেলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ১৫ বছর আগে এই মাসে আয়রন ম্যানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল মার্ভেলের নতুন যাত্রা। এর আগেও মেইসেলের হাত ধরে মার্ভেলে নতুন কিছু কাজ শুরু হয়। যেমন ২০০৩ সালে তার মাথা থেকেই এসেছিল মার্ভেলের নিজস্ব সিনেমা নির্মাণের ভাবনা। মার্ভেলের অনেক গল্প ও চরিত্র বিভিন্ন স্টুডিও ও প্রডাকশন হাউজের মালিকানায় ছিল। এরপর মেইসেলের হাত ধরে তা মার্ভেলের কাছে আসে এবং সিনেমা নির্মাণ শুরু করে মার্ভেল নিজেই। কিন্তু নানা কারণে এরপর মার্ভেলের সঙ্গে থাকা হয়নি তার। কিন্তু মার্ভেল নিজস্ব ইউনিভার্স তৈরি করেছে সিনেমায়। আর বাইরে থেকে এখন নতুন ইউনিভার্সের কথা ভাবছেন মেইসেল।

‘‌আজকের মার্ভেল এমন ছিল না। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেনি এমন কিছু করা সম্ভব’, হলিউড রিপোর্টারকে এভাবেই বলেন মেইসেল। কিন্তু ২০১০ সালে তাকে অনেকটা বাধ্য হয়েই মার্ভেল ছাড়তে হয়েছিল। এখন তিনি একোস ইউনিভার্স নামে তার নিজস্ব সুপারহিরো দুনিয়া তৈরি করতে চাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন এজন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। মিথোস স্টুডিওসের সঙ্গে কাজটি করছেন তিনি। এ কাজে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মার্ভেলের সাবেক প্রধান সম্পাদক জো-কোয়সান্দা ও মার্ভেলের প্রডাকশন বিভাগে এককালে কাজ করা জেরেমি ল্যাচম্যান। একোস ইউনিভার্সের প্রাথমিক পরিকল্পনায় লাইভ অ্যাকশন সিনেমা, অ্যানিমেশন ও গেম থাকবে। মাইকেল টার্নারের আর্ট থেকে নেয়া হচ্ছে অনুপ্রেরণা।

আয়রন ম্যান মুক্তির পর থেকে অনেকেই চেষ্টা করেছে এ রকম জনপ্রিয়তা অর্জনের কিন্তু তারা পারেনি। মেইসেল নিজেও জানেন বাস্তবতা। কিন্তু তার আত্মবিশ্বাসের একটা কারণ হলো তিনি নিজে এ কাজ আগেও করেছেন। এবার তিনি যুক্ত করেছেন এমন কিছু প্রতিষ্ঠানকে যারা আর্থিক ও প্রচারণায় সাহায্য করতে পারবে। এর মধ্যে আছে হাইব। বিটিএসের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রচারণায় যথেষ্ট সাড়া পাবেন মেইসেল। এছাড়া রন বার্কেল, নিকোলাস বার্গারেন ও জিম ব্রেয়ারের মতো বিলিয়নেয়াররা আছেন অর্থায়নে। এ ধরনের ইউনিভার্স তৈরিতে যে প্রচুর অর্থ খরচ হবে তা প্রথমেই নিশ্চিত করতে চাইছেন ডেভিড। কাজটা করা গেলে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।

টার্নারের আর্টও এক্ষেত্রে একটি অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে মেইসেলের জন্য। ২০১৮ সালে টার্নারের অ্যাসপেন কমিক থেকে ৫০ শতাংশের শেয়ার কেনা হয়। মিথোস মূলত সে সময় থেকেই কাজ শুরু করেছিল কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে যায়। মেইসেল এখন ভাবছেন মার্ভেল যেভাবে স্ট্যান লির কমিক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমা ও চরিত্র নির্মাণ করে, টার্নারের চরিত্র থেকেও তিনি সেভাবেই সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করবেন। এরই মধ্যে কয়েকটি চরিত্রের স্কেচ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে মার্ভেল অডিশন নামে একটি ছবির অনুসরণে একোস অডিশন নামে আরেকটি ছবি তৈরি করা হয়েছে। এখানেই একোসের কয়েকটি চরিত্র দেখা যায়। ছবিতে তিনি নিজের পাশাপাশি টার্নারকেও রেখেছেন।

মার্ভেলের সঙ্গে কোনো প্রতিযোগিতায় নামছেন না মেইসেল। মার্ভেল যে অবস্থান এরই মধ্যে অর্জন করেছে তাতে মার্ভেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভবও না। মেইসেল একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। কমিক ও সেখান থেকে চরিত্রদের নিয়ে ভিন্ন একটি দুনিয়া তৈরি করা তার প্যাশনের মধ্যে পড়ে। একোস ইউনিভার্স তৈরির চেষ্টা সেখান থেকেই তিনি করছেন।

সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার