ম্যাড থেটারের নতুন প্রযোজনা ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে। এটি রচনা, নির্দেশনা ও পরিকল্পনা করেছেন ম্যাড থেটারের প্রধান পরিচালক আসাদুল ইসলাম। এ নাটকের চরিত্র দুটি। রবীন্দ্রনাথ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুল ইসলাম ও ভিক্টোরিয়া চরিত্রে সোনিয়া হাসান। 

রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর শতাব্দী প্রাচীন প্রেমের নতুন উদ্বোধন ঘটেছে ম্যাড থেটারের দ্বিতীয় প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া নাটকটির মধ্য দিয়ে। গত মাসে ভারতের গুয়াহাটিতে নাটকটির সফল মঞ্চায়ন করে ম্যাড থেটার। নাটক নিয়ে জানতে চাইলে ম্যাড থেটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রেম আর প্রেমের ক্ল্যাসিক কাহিনীগুলোই পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত কাহিল পৃথিবীকে নবধারা জলে স্নাত করতে। বিদ্বেষশূন্য প্রেমময় পৃথিবীর জন্য আমাদের প্রতিদিনের প্রচেষ্টা ও প্রতীক্ষায় রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া একটি নির্মল গোলাপ।

১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পেরু সরকার দাওয়াত দিয়েছিলেন স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর থেকে জাহাজে চড়ে বসেন। দীর্ঘ দুই মাসের সমুদ্রযাত্রার ক্লান্তিতে তার শরীরে বাসা বাঁধে ইনফ্লুয়েঞ্জা। পেরুর উদ্দেশে যাত্রা করেও তিনি পৌঁছতে পারলেন না। জাহাজে কোনো রকম আর্জেন্টিনা পর্যন্ত পৌঁছতেই শরীরে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় এবং ডাক্তারের পরামর্শে বাধ্য হয়ে তাকে বিশ্রাম নিতে হয়। প্লাজা হোটেলে অসুস্থতার দিনগুলোয় একদিন হঠাৎ তার এক পাঠিকা এসে উপস্থিত হন। পাঠিকার আমন্ত্রণে কবি হোটেল ছেড়ে শহরের বাইরে সান ইসিদ্রোতে এক ভাড়াবাড়িতে অবসর কাটাতে লাগলেন। বাড়ির নাম ছিল মিরালরিও ভিলা, রিও ডেলাপ্লাটা নদীর পাড়ে। ১৯২৪ সালের নভেম্বর আর ডিসেম্বর, মিরালরিও ভিলায় কাটিয়ে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন। মিরালরিও ভিলায় অজানা ভাষার দেশে কাটানো দিনগুলোয় লেখা অনেক কবিতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম পূরবী। কবিতার এ বই রবীন্দ্রনাথ উৎসর্গ করেন ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে। রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সুন্দর সম্পর্কটি নিয়েই রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া।