বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর প্রাধান্য দিয়ে প্যারিসে শুরু হলো ‘বাংলাদেশি উইক ইন প্যারিস’। গতকাল শুরু হয়ে এ আয়োজন চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। আসরটিতে থাকবে ভাস্কর্য, প্রামাণ্যচিত্র, সাহিত্য ও সংগীত। বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি সামনে আনা হবে এখানকার পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতাও।

বাংলাদেশি সপ্তাহ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। তবে সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সৃজনশীল মানুষদের যৌথ প্রচেষ্টায়। বিশেষ করে যারা স্থাপত্য, শিল্প, সাহিত্য, জলবায়ু ও সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন, তারা এগিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য আয়োজন করেছেন নানা রকমের অনুষ্ঠানের। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বলতে কেবল দারিদ্র্য, জলবায়ু সংকট, জনসংখ্যা সমস্যা ও দূষণকেই চিহ্নিত করা হয়, তবে এবার গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু তুলে ধরা হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শককে আহ্বান করা হয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সিক্ত বাংলাদেশকে দেখার জন্য।

সপ্তাহব্যাপী আসরটিকে বাস্তবায়ন করার পেছনে রয়েছে ইসতিতুত ফ্রঁসেজ ও থিয়েতর ন্যাশনাল দে ল কোলিনের মতো প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৭ এপ্রিল ‘ব্যাম্বো স্টোরিজ’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ছিল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত আলোচনা। এছাড়া পুরান ঢাকার নগরপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল প্রদর্শিত হবে প্রামাণ্যচিত্র বেঙ্গল ডেল্টা: জার্নি টু দ্য ল্যান্ড অব মিসফরচুন। সেখানে জলবায়ু সংকটকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া থাকবে অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম সং অব হোয়েলস এবং নগর ও নদীর সম্পর্ক নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক। ১২ এপ্রিল হবে বাংলাদেশের বিখ্যাত কয়েকজন সাহিত্যিকের নির্মাণের নাট্যরূপ। থাকবে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সমাজ নিয়ে আলোচনা। অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিখ্যাত সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনের মাধ্যমে। পরিবেশকদের মধ্যে থাকবে রাহুল আনন্দ, মানু থেরন। উদযাপন করা হবে দুই দেশের মধ্য যৌথ উদ্যোগ।