পেশোয়ার হাইকোর্ট সম্প্রতি রাজ কাপুরের বাড়িকে জাতীয় ঐতিহ্য বলে রায় দিয়েছে। এটি ব্যক্তি মালিকানায় ফেরত দেয়া হবে না। সম্প্রতি মালিকানা দাবিতে করা এক মামলায় পেশোয়ার হাইকোর্ট এ রায় দেন। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে অবস্থিত ঐতিহাসিক কাপুর হাভেলির মালিকানা চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জাস্টিস ইশতিয়াক ইব্রাহিম ও আবদুল শাকুরের বেঞ্চ এ আবেদন খারিজ করে। বাড়িটি একসময় কিংবদন্তি বলিউড অভিনেতা রাজ কাপুরের পরিবারের মালিকানাধীন ছিল ও ২০১৬ সালে প্রাদেশিক সরকার এটিকে একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এক্ষেত্রে আরেকটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি, দিলীপ কুমার হাভেলির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত আগের রায়কে বিবেচনায় আনা হয়। এ সম্পত্তিও ছিল পেশোয়ারের কিসসা খোয়ানি বাজারে। ফেডারেল সরকার এটিকে একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল নিশ্চিত করেছেন, ২০১৬ সালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাপুর হাভেলি প্রাদেশিক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিচারপতি শাকুর অধিদপ্তরের দাবি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন ও হাভেলিতে কাপুর পরিবারের মালিকানা বা বাসস্থান যাচাই করতে পারে এমন কোনো নথি আছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

জবাবে পিটিশনকারী সাঈদ মুহাম্মদ যুক্তি দেন যে তার বাবা ১৯৬৯ সালে রাজ কাপুর হাভেলির জন্য একটি নিলাম জিতেছিলেন ও প্রাদেশিক সরকার একটি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত এর পূর্ণ মালিকানাও ছিল তার। সাঈদ মুহাম্মদ আরো বলেন, কাপুর পরিবার কখনো সম্পত্তির মালিক ছিল বা হাভেলিতে বাস করেছিল বলে কোনো প্রমাণ নেই। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর বেঞ্চ রায় দেয়, বিষয়টি আরো আলোচনা ও সমাধানের জন্য দেওয়ানি আদালতে নিয়ে যেতে হবে।

এখানে আছে আরো কিছু বিষয়। বর্তমানে কাপুর হাভেলির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান মালিকরা এর কাঠামো ভেঙে একটি বাণিজ্যিক প্লাজা তৈরি করতে চায়। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক মূল্যের কারণে প্রাসাদটি সংরক্ষণের পক্ষে।

১৯১৮-১৯২২ সালের মধ্যে নির্মিত কাপুর হাভেলি পেশোয়ারের অন্যতম কেন্দ্র কিসসা খোয়ানি বাজারে অবস্থিত। এটি ছিল রাজ কাপুর ও তার চাচা ত্রিলোক কাপুরের জন্মস্থান। নব্বইয়ের দশকে রাজ কাপুরের ভাগনে, ঋষি কাপুর ও রণধীর কাপুরও সম্পত্তিটি পরিদর্শন করেছেন। তবে এরপর কাপুর পরিবার এ হাভেলি নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

সূত্র: পিটিআই