সিনেমা ও সংগীতে পাকিস্তানের জন্য ২০২২ একটি বিশেষ বছর। আলী সেঠির ‘‌পাসুরি’ গুগলে সর্বাধিক খোঁজা গান হওয়ার পাশাপাশি অস্কার শর্টলিস্টে মনোনীত হয়েছে পাকিস্তানের সিনেমা ‘‌জয়ল্যান্ড’। গ্র্যামি জিতেছেন আরুজ আফতাব। এর আগে নানা কারণে পাকিস্তানের শিল্পীরা বলিউডে নিষিদ্ধ হতে শুরু করেন। কিন্তু পাকিস্তানের অনেক টিভি সিরিয়াল ও গান ভারতেও জনপ্রিয়। তেমনই একটি সিরিয়াল ‘‌জিন্দেগি গুলযার হ্যায়’। ২০১৩ সালের এ ড্রামার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ফাওয়াদ খানের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন সানাম সাঈদ। পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি। ভারতীয় স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম জি ফাইভে স্ট্রিমিং হওয়া সানাম অভিনীত ‘‌কাতিল হাসিনো কে নাম’ প্রোম্যাক্স ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে স্বর্ণজয়ী হয়েছে। 

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ জয় সম্পর্কে সানাম বলেন, ‘‌বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এখানে ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করেছে। দুটি প্রায়সদৃশ সংস্কৃতি ও একই চিন্তাধারার দেশের সংযোগে সিরিজটি নির্মিত, যার নির্মাণে ছিলেন নারীরা।’ ভারতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও দুই দেশের সম্পর্কের কারণে এখন যৌথ কাজ কমে আসছে। এ সম্পর্কে সানামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‌একটা সময় কারা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভারতের অভিনেতারা আসতেন, আমরা ভারতে যেতাম। বলিউডের দরজা খোলা ছিল। এরপর শিল্পের মাঝখানে রাজনীতি এসে গেল। এখন যৌথ উদ্যোগে একটি সিরিজ নির্মিত হলো। দেখা যাক, এখান থেকে আরো কিছু আসে কিনা।’

একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ভারতে কাজ করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পাকিস্তানি শিল্পীদের জন্য দুঃখজনক একটি অভিজ্ঞতা। সানাম জানান, এ বিষয় থেকে তারা নিজেদের বের করে এনেছেন। এখন স্ট্রিমিং বা অন্য মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগটিই তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। 

সানাম মূলত হলিউডের সিনেমার ভক্ত। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেই জানান যে পাকিস্তানের একটি প্রজন্ম বলিউডের সিনেমা দেখে বড় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের দাদার সময় থেকে আমরা সবাই বলিউড দেখেই বড় হয়েছি। মধুবালার সিনেমা থেকে কারিনা কাপুর এমনকি দীপিকা পাড়ুকোনকেও আমরা জানি। বলিউডের সিনেমা, নাচ, গান এমনকি পূজা সম্পর্কেও জানি। পাকিস্তানে আমরা ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানি।’ এ প্রসঙ্গেই সানাম দুঃখ প্রকাশ করে জানান, পাকিস্তান ভারত সম্পর্কে যা জানে, সে তুলনায় ভারতীয়রা পাকিস্তান সম্পর্কে কিছুই জানে না। সানাম বলেন, ‘‌ভারতীয়রা আমাদের সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমরা জানি ভারতের রুটি কেমন হয় কিন্তু ভারতীয়রা আমাদের খাবার সম্পর্কে জানে না।’

সানামের কথায় অভিযোগ বা ক্ষোভ নয় বরং আফসোসের সুর পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতির আদান-প্রদান হলে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন সহজ হতো। 


সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস