সংগীত কোনো পণ্য নয়। তাই এর কোনো প্রচারণার প্রয়োজন নেই। এমনটাই দাবি করেন উপমহাদেশের সরোদ মায়েস্ত্রো ওস্তাদ আমজাদ আলী খান। বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সংগীত একটি প্রয়োজনীয় বিষয় বলে বিশ্বাস করেন এ জীবন্ত কিংবদন্তি। তার মতে, সংগীত হলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে এমন এক উপহার, যা মানুষের ভেতরে বেড়ে ওঠে। 

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ৭৭ বছর বয়সী এ সংগীতজ্ঞ। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে পদ্মবিভূষণ বিজেতা বলেন, ‘সংগীতের প্রচার করা যায় না। সংগীত কোকা-কোলা কিংবা টুথপেস্টের (পণ্য) মতো বিপণনযোগ্য কিছু নয়। এটি মানুষের ভেতর বেড়ে ওঠে। যখন একটি কনসার্ট হাউজফুল হয়, তখন আমাদের অনুধাবন ও বিশ্বাস করা উচিত যে মানুষের জন্য সংগীত গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণে তারা এটি উপভোগ করতে আসে।’

মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের ওপরই সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে বলে জানান ওস্তাদ আমজাদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘রোগীদের সংগীতের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মর্মস্পর্শী সংগীত শোনার পর চারাগাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও গবাদি পশু আরো বেশি দুধ দেয়। মানসিক প্রশান্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যেক মানুষের আকর্ষণীয় সংগীত শ্রবণ করা উচিত।’ তবে সংগীত শোনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধারা (জনরা) বেঁধে দেয়ার পক্ষপাতি নন বর্ষীয়ান এ সংগীতজ্ঞ। তার দুই যমজ নাতি জোহান ও আবীর কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএসের ভক্ত। এটি তাদের সংগীত ঐতিহ্যের একেবারে বিপরীত ঘরানার। তিনি বলেন, ‘জোহান ও আবীর মাইকেল জ্যাকসন ও জাস্টিন বিবারের গান শোনে। যখনই আমরা মুখোমুখি বসি, তারা আমাকে কিছু একটা দেখায়। আমি তাদের প্রশ্ন করি, সে জাস্টিন বিবার কিনা? তারা বলে, ‘না, এটি বিটিএস ব্যান্ড!’ একটি নতুন কোরীয় গ্রুপ এবং আমি এটি সম্পর্কে জানি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিবারে আমরা কারো ওপর কোনো কিছু আরোপ করি না। বরং আমরা তাদের যেকোনো ধরনের সংগীত শোনার সুযোগ দিই। সংগীত আমাদের জীবনের সম্পদ। সে কারণে সন্তানদের সঙ্গে আমরা সংগীত ভাগ করে নিই।’ 

সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া