দেশের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী ববিতা। দেশের সীমানা ছাড়িয়েও তিনি দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। অস্কারজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের মতো পরিচালকের সিনেমায় কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। লম্বা সময় ধরে বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকলেও কমেনি তার দর্শকপ্রিয়তা।
আজ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস সিটিতে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘ডালাস বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব’। এ উৎসবে সম্মাননা দেয়া হবে ববিতাকে। এ অভিনেত্রীকে ঘিরেই মূলত উৎসবের প্রথম আসরের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে ববিতা অভিনীত, আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমাটি। এছাড়া সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ও ববিতা অভিনীত ‘অশিন সংকেত’ সিনেমাটিও প্রদর্শিত হবে। ৬ আগস্ট উৎসবটির পর্দা নামবে। ডালাস অ্যাঞ্জেলিকা ফিল্ম সেন্টারে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে ববিতা বলেন, ‘একটা সময় আমাদের দেশের গুণী নির্মাতারা খুব ভালো কিছু সিনেমা নির্মাণ করতেন। দেশ স্বাধীনের আগে সেসব গুণী নির্মাতাদের ভালো সিনেমা আন্তর্জাতিক উৎসেব স্থান পেত না। দেশ স্বাধীনের পর আন্তর্জাতিক উৎসবে আমাদের দেশের সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ পেল। একসময় সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত সিনেমায় আমার অভিনয়ের সুযোগ এল। সিনেমাটি সে সময়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল। এ সিনেমা নিয়ে বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আমি প্রতিনিধিত্ব করলাম। সবাইকে অবহিত করেছিলাম আমি বাংলাদেশের মেয়ে। আজ শুধু আমাকে ঘিরেই এ ডালাস বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব হতে যাচ্ছে। আবার সেখানে মাননীয় মেয়র আমার হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। এ সম্মান আমার একার নয়, এ সম্মান এ প্রাপ্তি আমার দেশের, আমার পরিবারের।’
ববিতা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ এখন পর্যন্ত সাত বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চলচ্চিত্রে ‘আজীবন সম্মাননা’সহ বহু সংগঠন কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ ববিতা নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন ববিতা।
রুপালি জগতে প্রথমদিকে তার নাম ছিল ‘সুবর্ণা’। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম হয়ে যায় ‘ববিতা’। ১৯৬৯ সালেই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ববিতা।










