আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা। চলচ্চিত্রে তার শুরুটা শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমা দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক তার। এরপর জহির রায়হান পরিচালিত ‘শেষ পর্যন্ত’ সিনেমায় তিনি নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। এটি ছিল ববিতা অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা। ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট মুক্তি পায় সিনেমাটি। নায়িকা হিসেবে প্রথম সিনেমায় অভিনয়ের পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অভিনয় জীবনের ৫৪ বছর পার করেছেন ববিতা। প্রায় পাঁচ যুগ পরেও দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছেন এ অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রে অভিনয়ে ৫৪ বছর পেরিয়ে জীবনের এ প্রাপ্তিকে অনেক বড় করেই দেখছেন তিনি।
অভিনয় জীবনের এ লম্বা পথচলা নিয়ে কথা হয় ববিতার সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘শুরুতেই যার প্রতি কৃতজ্ঞ, তিনি হচ্ছেন আমাদের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গর্ব শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান। তিনি অভিভাবক হিসেবে ছিলেন বলেই সিনেমায় কাজ করার সাহস পেয়েছি, অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তার সঙ্গে যে নামটি আসে তিনি হলেন আমার বড় বোন সুচন্দা আপা। আর আমাদের দেশের খ্যাতিমান পরিচালক যেমন খান আতাউর রহমান, নারায়ণ ঘোষ মিতা, সুভাষ দত্ত, আমজাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, কামাল আহমেদসহ আরো বেশ কয়েকজনের কথা বিশেষত বলতেই হয়।’ রুপালি জগতে প্রথম দিকে তার নাম ছিল ‘সুবর্ণা’। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম হয়ে যায় ‘ববিতা’। ১৯৬৯ সালেই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ববিতা। একাধিক ব্যবসা সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এ সময়ে তাকে দেখা গেছে দেশের গুণী অভিনেতাদের সঙ্গে। দর্শক তাকে আজও স্মরণ করে গভীরভাবে। দীর্ঘ অভিনয় জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে ববিতা আরো বলেন, ‘অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি নায়ক রাজ রাজ্জাক, আনোয়ার হোসেন, গোলাম মুস্তাফা, এটিএম শামসুজ্জামানের কথা। তাদের কাছ থেকে অভিনয় শিখে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি। অভিনয় জীবনে পথ চলতে গিয়ে বাড়ি গাড়ির প্রতি কোনো লোভ ছিল না আমার। ভালো গল্পের সিনেমা বিনে পয়সায় করেছি আমি। দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি, হলে হাত তালি পেয়েছি, তাতেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। অনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে উড়িয়েছি, এ প্রাপ্তি আমাকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অবশ্যই কৃতজ্ঞ অস্কারজয়ী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের প্রতিও। কৃতজ্ঞ আমার চলচ্চিত্র পরিবারের কাছে, আমার পরিবারের কাছে। সবার ভালোবাসায় আজ আমি এখানে।’
সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। এ সিনেমায় অনঙ্গ বৌ চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা। অশনি সংকেতে ববিতার বিপরীতে ছিলেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের সিনেমায় নায়িকাদের মধ্যে ফ্যাশন আইকন হিসেবে এখনো ববিতাকেই ফলো করেন নায়িকারা, এমনকি ভক্তরা। গুণী এ অভিনেত্রী সর্বশেষ নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সা ওয়ালা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। আবার কবে তাকে পর্দায় দেখা যবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘কিছুদিন আগে দুজন নির্মাতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুজনের গল্পই আমার কাছে বিবেচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের সিনেমার গল্প ভালো লেগেছে। তবে চূড়ান্ত না হলে তা বলা যাবে না।’ এবার দেখার পালা ববিতা নতুন চমক নিয়ে পর্দায় আসেন কিনা।
ববিতা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ এখন পর্যন্ত সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চলচ্চিত্রে ‘আজীবন সম্মাননা’সহ বহু সংগঠন কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন।










