শিল্পীরা বহু সময় হয়েছেন মানবতার কণ্ঠস্বর। সে তালিকার প্রথম দিকেই থাকবে হ্যারি বেলাফন্টের নাম। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ক্যালিপসো (আফ্রিকান সুরের এক ধরনের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গান) জনপ্রিয় করার পাশাপাশি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। বলা হয় আফ্রিকান-আমেরিকান পপ স্টারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল মারা যান তিনি। হ্যারি বেলাফন্টের বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
বেলাফন্টে ছিলেন একজন জ্যামাইকান-আমেরিকান গায়ক ও অ্যাক্টিভিস্ট। নিউইয়র্কের হারলেমে তার জন্ম ১৯২৭ সালে। ক্যারিবিয়ান অভিবাসীর সন্তান তিনি। স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যুদ্ধের পর অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এরপর আসেন গানে। আরউইন পিসরের ড্রামাটিক ওয়ার্কশপে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। পছন্দ করতেন মারলন ব্র্যান্ডো, ওয়াল্টার ম্যাথু ও টনি কার্টিসের অভিনয়। এখানকার ফি দেয়ার জন্য তাকে গাইতে হতো নিউইয়র্কের নানা ক্লাবে। সেখান থেকেই গানের জগতে প্রবেশ। মিস ডেভিস ও চার্লি পারকারের সঙ্গে গেয়েছেন তিনি।
হ্যারির সাফল্য শুরু হয় ক্যালিপসো থেকে। অ্যালবামটি মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালে। এতে এক নতুন ধারার গান নিয়ে আসেন তিনি। অ্যালবামের আগে জ্যামাইকা ফেয়ারওয়েল ও ডে-ও জনপ্রিয় হয়েছিল। ক্যালিপসোর বৈশিষ্ট্য ছিল আফ্রিকান সুরের ছোঁয়া। বিলবোর্ডে সেরা হয় তার এ অ্যালবাম। এরপর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বহু জনপ্রিয় ভেন্যুতে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার জনপ্রিয়তা এরপর বাড়তেই থাকে। ক্রমেই জনপ্রিয়তম শিল্পীতে পরিণত হন।
কাছাকাছি সময়ে হ্যারি অ্যাক্টিভিজম শুরু করেন। তিনি মার্টিন লুথার কিংয়ের অন্যতম ভক্ত ও সমর্থক ছিলেন। সিভিল রাইটস নিয়ে কাজ করা বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে তিনি আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন। এছাড়া কিং ও অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীকে জামিন দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৩ সালের মার্চ টু ওয়াশিংটন ও ১৯৬৫ সালের সেলমা টু মন্টোগোমারি মার্চে অংশ নেন। তাকে নিয়ে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, ‘অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বেলাফন্টের বৈশ্বিক পরিচিতি ও তার নিবেদন একটি মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। তার সাহস ও নৈতিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
শিল্পী ও অভিনেতা হিসেবে তিনি স্বনামে খ্যাত। এখনো ‘ডে-গ’, ‘জাম্প ইন দ্য লাইন’, ‘জ্যামাইকা ফেয়ারওয়েল’, ‘মেরিস বয় চাইল্ড’ জনপ্রিয়। সিনেমার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে ‘ক্যামেরন জোনস’, ‘আইল্যান্ড ইন দ্য সান’ ও ‘অডস অ্যাগেইনস্ট টুমরো’। জিতেছেন গ্র্যামি, গ্র্যামির আজীবন সম্মাননা। ১৯৮৯ সালে লাভ করেন কেনেডি সেন্টার সম্মাননা। এছাড়া মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি সম্মানিত। কেননা তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল মানুষের কথা। জীবন ও কাজ নিয়ে এক অনুষ্ঠানে হ্যারি বলেন, ‘যা করেছিলাম, নিজের আদর্শ অনুসারেই। আর এতদিন পর মনে হয়, জীবনটা খারাপ নয়।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










