অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম ২০২৫ সালের এমি অ্যাওয়ার্ডসের রেড কার্পেটে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সাহসী বার্তা দিয়েছেন। এবারের এমির লালগালিচায় হাজির হয়েছেন গলায় ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ রুমাল জড়িয়ে। সেখানে প্রকাশ্যে বলেন, ‘গাজায় গণহত্যা চলছে, আমি সে গণহত্যার নিন্দা করছি। আমি এমন কারো সঙ্গে কাজ করতে পারব না, যে এ গণহত্যাকে সমর্থন করে বা ন্যায্যতা দেয়।’ গত সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরে লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে বসেছে ৭৭তম এমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। সেখানেই এ মন্তব্য করেন ‘এফ ওয়ান’ তারকা জাভিয়ের বারদেম। খবর ভ্যারাইটি ডট কমের।
রেড কার্পেটে ভ্যারাইটির সাংবাদিক মার্ক ম্যালকিনকে বারদেম বলেন, ‘আজ আমি গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাচ্ছি। আন্তর্জাতিক গণহত্যাবিষয়ক সংস্থা (আইএজিএস) গভীরভাবে গবেষণা করে এটিকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এজন্য আমরা ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছি। ফ্রি প্যালেস্টাইন।’
এ সপ্তাহে ‘ফিলিস্তিনের জন্য চলচ্চিত্রকর্মী গ্রুপ আয়োজন করেছিল একটি অঙ্গীকারপত্র, যেখানে স্বাক্ষর করেছেন ৩ হাজার ৯০০ চলচ্চিত্রকর্মী। অঙ্গীকারপত্রে বলা হয়েছে, যেসব ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান বা চলচ্চিত্র কোম্পানি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে তারা কাজ করবেন না।
অবশ্য আমেরিকান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থা প্যারামাউন্ট স্টুডিও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গল্প বলার ক্ষমতা মানুষকে সংযুক্ত ও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিরুদ্ধে বয়কট ঘোষণাকে আমরা সমর্থন করি না। শিল্পীদের তাদের গল্প বলতে পারা উচিত, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তি প্রচারে সহায়ক হবে। জাতীয়তার কারণে শিল্পীদের চুপ করানো সমাধান নয়।’
বারদেমসহ এ অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন হলিউডের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনেকে। এদের মধ্যে ইয়োরগোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভারনে, এমা সেলিংম্যান, এমা স্টোন, রিজ আহমেদ, মার্ক রাফলোর, টিল্ডা সুইন্টনসহ আরো অনেকে রয়েছেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে অভিনেতা বারদেমের অবস্থান হলিউডে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে অনেকেই তাকে সাহসী ও ন্যায়সংগত হিসেবে দেখছেন। জাভিয়ের বারদেমের দৃঢ় বার্তা শুধু বিনোদন জগতে নয়, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষেও সাহসী অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতে এ বার্তা মনে করিয়ে দেয়, শিল্পী ও শিল্পের শক্তি সমাজে বিদ্যমান সমস্যার পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি










