হলিউডে এখনো চলছে ধর্মঘট। রাইটার্স গিল্ডের ডাকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হয়েছেন টেকনিশিয়ান, ক্রু মেম্বার, রেডিও টেলিভিশন আর্টিস্ট, এমনকি অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী। প্রথম সারির অভিনেতা-অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার এমনকি ক্রু মেম্বারদের খুব একটা সমস্যা না হলেও বিপদে পড়েছেন মধ্যম সারির কর্মীরা। কেননা তাদের নিয়মিত বেতন থেকে তেমন কিছু জমাতে পারেননি। এদিকে গত মে মাসে শুরু হওয়া ধর্মঘটের বয়স এখন চার মাসের কাছাকছি। ফলে অর্থ সংকটে পড়েছেন এ কর্মীরা। সে সংকট সামাল দিতে অবসর ভাতা থেকে অগ্রিম অর্থ তুলছেন তারা। হলিউডের ধর্মঘটে প্রভাব পড়েছে এমন কয়েক হাজার কর্মীর। আর তারা মোটের ওপর প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলার তুলেছেন অবসর ভাতা থেকে।
চলমান আন্দোলনের কারণে হলিউডে নানা ক্ষেত্রে কাজ করা কয়েক হাজার কর্মী বেকার হয়ে আছেন। প্রায় তিন হাজার কর্মী তাদের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। এ কথা জানিয়ে মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রি পেনশন অ্যান্ড হেলথ প্ল্যান থেকে তারা অর্থ তুলেছেন। জনপ্রতি নেয়া অর্থের পরিমাণ গড়ে ১৫ হাজার ডলার। এ অর্থের পরিমাণ হলিউডে নানা স্টুডিওর ক্রু মেম্বারদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার পরিচয় দেয়। এদের মধ্যে স্টুডিওর নানা ধরনের কাজ করা কর্মীর সংখ্যাই বেশি। আছেন সেট পেইন্টার, প্রপস সাজিয়ে দেয়ার কাজে যুক্ত কর্মী, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট, কস্টিউম ডিজাইনারসহ আরো অনেকে। তবে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন গাড়িচালকরা। তাদের একেবারেই বেকার অবস্থা।
তবে বেকার হয়ে পড়া কর্মীদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে দি এন্টারটেইনমেন্ট কমিউনিটি ফান্ড। এ সংগঠন থেকে ৩ হাজার ১০০ কর্মীকে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন ফান্ড জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করেছে।
হলিউডের ধর্মঘটের একটি বড় দিক হলো এতে হলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা, অভিনেতারাও সরব। তারা কর্মীদের আর্থিক সাহায্যও করেছেন। স্টিভেন স্পিলবার্গ, কেট ক্যাম্পশ, রায়ান মারফি ও গ্রেগ বারলান্তি এদের মধ্যে প্রধান। তারা প্রত্যেকে ৫-১৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
মোশন পিকচার্স ইন্ডাস্ট্রি পেনশন অ্যান্ড হেলথ প্ল্যান অনুসারে, অবসর পরিকল্পনায় থাকা একজন ব্যক্তি আর্থিক সংকটের কারণে তার অ্যাকাউন্টের মোট অর্থের ২০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার) এককালীন নিতে পারেন। চলমান ধর্মঘটের মধ্যে ৩১ জুলাই থেকে এর জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন মঞ্জুর হতে শুরু করে।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি










