টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সাদিয়া আয়মান। ছোট পর্দায় একের পর এক নাটকে দেখা মিলছে তার। ওয়েব ফিল্ম ‘মায়াশালিক’ দিয়ে গত বছর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রায় চার বছরের ক্যারিয়ারে সিনেমায়ও নাম লিখিয়েছেন তিনি। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘কাজলরেখা’ সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। ব্যক্তি জীবন ও অভিনয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

প্রথম সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছেন। আপনার আসন্ন সিনেমা ‌কাজলরেখায় অভিনয়ের গল্পটা কেমন।

কাজলরেখার জীবনের যে জার্নি সেটা অনেক সুন্দর। আমার চরিত্রটা কাজলরেখার কিশোরী বয়সটা নিয়ে। আসলে কাজলরেখার কিশোরী বয়সের একটা ঘটনা থেকে তার যাত্রা হয়। খুব ভালো হয়েছে কাজটা। আমি খুব খুশি এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। গিয়াস উদ্দিন সেলিম ভাইয়ের প্রতি আমি গ্রেটফুল, কারণ আমাকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আমি কাজলরেখা সিনেমার জন্য সাইন করি। ওই সময় বিজ্ঞাপনেই কাজ করতাম। বলা যায়, আমি বিজ্ঞাপন থেকে একেবারে সিনেমায় গিয়েছি, তারপর নাটক করেছি। কাজলরেখা সেলিম ভাইয়ের ড্রিম প্রজেক্ট। আর এমন একটি গল্পে কাজলরেখার চরিত্রে অভিনয় করছি, এটা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়।

ওয়েব ফিল্ম মায়াশালিকের জন্য দর্শক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এ অনুভূতি কেমন ছিল সে সময়?

আমি মায়াশালিকের জন্য এখনো দর্শকের ভালোবাসা পাই। এটা আসলে খুব ভালো লাগার মতোই বিষয়, যখন একটা কাজ মানুষের ভালোবাসা পায়। একটা কাজ যখন শুরু করি, তখন তো আর জানি না এটা মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে। দায়িত্বের জায়গা থেকে নিজের সেরাটা দিয়ে অভিনয় করি। যখন সে কাজের সফলতা আসে, তখন সেটা এক্সট্রা ভালোবাসার বিষয়।

সারাহ চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। এর রহস্য কী?

এ চরিত্রের জন্য খুব বেশি খাটতে হয়নি আমাকে। মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। চরিত্রটা নিয়ে ভেবেছি অভিনয়ের আগে থেকেই। আমার মনে হয়েছে চরিত্রটা আসলে আমার মতোই, তাই খুব সহজে এর সঙ্গে নিজেকে কানেক্ট করতে পেরেছি। আমরা পুরো টিম অনেক কষ্ট করে শুটিং করেছি। খুব ডেডিকেশন নিয়ে কাজটা করেছিলাম আর দর্শক আমাকে ভালোবাসাও দিয়েছেন।

ল্যান্ডফোন নিয়ে কোনো গল্প আছে?

আমার বাসায় ল্যান্ডফোন এখনো আছে। কিন্তু আমি কখনো কারোর সঙ্গে কথা বলিনি। ল্যান্ডফোন নিয়ে আমার কোনো গল্প নেই তাই। তবে একটা মজার কথা আছে যে আমি ছোটবেলায় ফোনে একা একা কথা বলতাম, এই যখন সিক্স-সেভেনে পড়ি তখন। ফোনের অন্য প্রান্তে কেউ না থাকলেও আমি একদম গুছিয়ে কথা বলতাম। এটা খুব ইন্টারেস্টিং ছিল আমার জন্য। বলা যায়, অনেকটা অভিনয়ের মতো।

তাহলে কি অভিনয়ের ইচ্ছা ছোটবেলা থেকেই ছিল?

অভিনয় বিষয়টাই আমি ছোটবেলায় বুঝতাম না। আমি মনে করতাম যে টেলিভিশনের ভেতর যেটা দেখছি, সেটা সত্যি। অভিনয় যে ক্যামেরার সামনে করতে হয়, এর জন্য আলাদা স্ক্রিপ্ট থাকে, এটা আমি ভালোভাবে জেনেছি যখন আমি বিজ্ঞাপনের জন্য কাজ শুরু করলাম তখন। অভিনয়ের ইচ্ছা আমার কখনো ছিল না, এটা হঠাৎ করেই হয়ে গেছে। হয়তো এ কারণেই আমি এখন এখানে আসতে পেরেছি। আমার মনে হয়তো প্ল্যান থাকলে সেটার পেছনে ছুটতে ছুটতে এখানে আসাই হতো না। যেহেতু আমার এক্সপেকটেশন ছিল না, তাই অভিনয় থেকে যা পেয়েছি তা আমার জন্য অনেক বড়।

তবে মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

আমার শুরু হচ্ছে ইমরাউল রাফাত ভাইয়ের নাটক ‘‌টু বি ওয়াইফ’-এর একটা অতিথি শিল্পী হিসেবে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সেমিস্টারের বিরতির মধ্যে আমি কাজটা করি। ইমরাউল রাফাত ভাইয়ের টু বি ওয়াইফ নাটকের জন্য নতুন মুখ দরকার ছিল। ভাইয়া ফেসবুকে একটা পোস্ট করেছিলেন এজন্য। তখন তার সঙ্গে কথা হয়, তারপর কাজটা করা হয়। এ সময় আমি আসলে বুঝি ক্যামেরার সামনে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে অভিনয় করেন অভিনেত্রীরা। এরপর কয়েকটা বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। আসলে বলা যায়, আমি পুরোদমে অভিনয় শুরু করেছি ‘‌ফুলের নামে নাম’ নাটক দিয়ে।

এখন অভিনয় নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

আমি অভিনয়টা ভালোবেসে করছি। আমি আসলে অভিনয়ের মধ্যেই থাকতে চাই। আমি ল নিয়ে পড়ছি। আমার পরিবারে অভিনয় করছেন এমন কেউ নেই। আমার বাবা-মা কখনো শোনেননি যে আমি অভিনয় করতে চাই। ওই জায়গা থেকে আমি নিজেই এখানে এসেছি। এখন অভিনয় করতে গিয়ে মনে হচ্ছে আমি খুব বেশি এ জায়গা পছন্দ করি। অভিনয় ছাড়া আমি আসলে থাকতে পারব না। পড়াশোনা শেষ করে আমি অভিনয়ের মধ্যেই থাকতে চাই।