সিনেমা হল বা থিয়েটারে দর্শকের যাতায়াত কমছে। এর মধ্যে কিছু সিনেমা ভালো ব্যবসা করছে। আবার কোনো সিনেমা আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছে না। কিন্তু মোটের ওপর হিসাব করলে দেখা যায়, সিনেমা হল থেকে আগের মতো আয় করতে পারছে না কোনো সিনেমা। বলিউডে কয়েক বছর ধরে এ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে হলিউডেও একই দশা। মার্ভেল, টম ক্রুজ, জেমস ক্যামেরন—এ ধরনের নামগুলো থাকলেই কেবল আয়ের মুখ দেখে থিয়েটার। কভিড-১৯ অতিমারীর পর থেকেই থিয়েটারে এ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। মানুষ ঝুঁকছে স্ট্রিমিংয়ের দিকে। থিয়েটারে আর যেতে চায় না অনেকেই।

ভ্যারাইটিকে দেয়া কমস্কোরের তথ্যমতে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে হলিউড বক্স অফিসের আয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ২৩০ কোটি ডলার। থিয়েটারের অবস্থা অনেকটাই অতিমারী পূর্ববর্তী সময়ের মতো হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখলে বোঝা যায়, সিনেমাগুলো খুব ভালো আয় করছে না। শুধু কিছু জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমা ভালো আয় করছে। মূল্যস্ফীতি একটি কারণ হলেও আরেকটি কারণ হলো স্ট্রিমিং সাইটের জনপ্রিয়তা। নেটফ্লিক্স, প্রাইম, এইচবিও ম্যাক্স, ডিজনি প্লাস, প্যারামাউন্ট প্লাসের মতো সাইটগুলোয় দর্শকের আনাগোনা বেশি। তারা কেবল অর্থ খরচের ভয়ে থিয়েটার বিমুখ হয়েছে, ব্যাপারটা এমন নয়। বাড়িতে বসে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখাই এ প্রজন্মের বেশি পছন্দ।

ব্যবসা বা মুনাফার ক্ষেত্রেও প্রযোজকরা থিয়েটারের তুলনায় স্ট্রিমিং সাইটকে পছন্দ করছে। কেননা পুরনো রীতিকে পরিবেশক সিনেমাটিকে থিয়েটারে পৌঁছে দিত। মুনাফার একটি অংশ যেত পরিবেশকদের পকেটে। প্রযোজকদের হাতে আসত কম। এক্ষেত্রে এখন সরাসরি স্ট্রিমিং সাইটকে সিনেমার প্রচারস্বত্ব দিয়ে দেয়া হয়। এতে একদিকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বেশি লাভ করে, অন্যদিকে স্ট্রিমিং সাইটও ব্যবসা করে সরাসরি। অন্যদিকে এখন একেকটি স্ট্রিমিং সাইটই প্রযোজনা করে। তারাই নির্মাতা, তারাই বিপণনকারী, তারাই মূলত থিয়েটার বা বক্স অফিস। লাভ পুরোটা নিজেদের হাতেই থাকে। প্রচারণার জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না সবসময়। কেননা স্ট্রিমিং সাইটের থাকে অনুরক্ত বহু ভক্ত।

কিছু সিনেমা প্রথমে থিয়েটারে মুক্তির পর আবার আসে স্টিমিং সাইটে। দেখা যায় থিয়েটারের তুলনায় স্ট্রিমিং সাইটে সিনেমাগুলো বেশি সাড়া পায়। সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ দেয়া যায়। সুপার মারিও ব্রোস এর মধ্যে আয় করেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। কিন্তু ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেক অভিনীত ‘‌এয়ার’ আয় করেছে ২ কোটি ডলারের কিছু বেশি। সিনেমাটির প্রচারে খরচ হয়েছে প্রচুর। কিন্তু থিয়েটারে এর প্রভাব দেখা যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি থিয়েটার থেকে উঠে গেলে প্রাইমে প্রচার হবে এবং সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রচারণার প্রভাব তখন দেখা যাবে। এ সময় প্রতিটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই এমন কোনো পরিকল্পনা রাখছে। ভারতেও দেখা গেছে, থিয়েটারে ব্যর্থ হওয়া সিনেমা স্ট্রিমিংয়ে ভালো সাড়া পায়। মোটের ওপর ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে, স্ট্রিমিং সাইটের এ সুসময়ে বিপাকে আছেন থিয়েটার মালিকরা।

সূত্র: ভ্যারাইটি