২০১৪ সালে সৈকত নাসির নির্মাণ করেন দেশা: দ্য লিডার। প্রথম সিনেমাটিই জিতে নেয় চার-চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরার সে সিনেমায় মাহিয়া মাহির বিপরীতে অভিষেক ঘটে শিপন মিত্রের। ছবির গল্পও সৈকত নাসিরের। তবে সংলাপ লিখেছিলেন আব্দুল্লাহ জহির বাবুকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর নাসির বানিয়েছেন হিরো ৪২০, পাষাণ-এর মতো সিনেমা। গত বছরটা কর্মব্যস্ততায় কাটিয়েছেন এ পরিচালক। একে একে নির্মাণ করেছেন চারটি সিনেমা। ক্যাসিনো, তালাশ, বর্ডার ও মাসুদ রানা। এছাড়া নেটওয়ার্ক নামে একটি ওয়েব সিরিজ নির্মাণ কমেছেন। কোনোটার কাজ পুরোপুরি শেষ, কোনোটা একেবারেই শেষের পথে। এর মধ্যে আছে মাসুদ রানার মতো আলোচিত বড় পরিসরের সিনেমা। চারটি সিনেমাই এ বছর মুক্তির প্রহর গুনছে।

চারটি ছবি ও ওয়েব সিরিজ মুক্তির বিষয়ে সৈকত নাসির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তালাশ মুক্তি পাচ্ছে ৪ ফেব্রুয়ারি। পরের মাসেই, অর্থাৎ মার্চে মুক্তি পাবে বর্ডার। দুই ঈদের মাঝে অথবা ঈদে মুক্তি পাবে ক্যাসিনো। এ তিনটি সিনেমা পুরোপুরি রেডি। মাসুদ রানা মুক্তি দেব ডিসেম্বরে। এছাড়া নেটওয়ার্ক নামে একটা ওয়েব সিরিজ আসবে। ১৬টি পর্ব নিয়ে দুই সিজনে সাজানো হয়েছে নেটওয়ার্ক। এটা মুক্তি পাবে ওটিটি প্লাটফর্ম আই থিয়েটায়।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে তালাশ সিনেমার শুটিং শুরু করেন সৈকত নাসির। ঢাকা, কক্সবাজার টানা শুটিংয়ের মাধ্যমে কাজ শেষ করেন। এ সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেন আদর। একদল গানপাগল ছেলেমেয়ের জীবনের গল্প নিয়ে তালাশ। সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন মাসুম বাশার, মিলি বাশারসহ কয়েকজন র্যাম্প মডেল।

বুবলী ও আদরের অভিনয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দেশা-দ্য লিডার খ্যাত এ নির্মাতা বলেন, বুবলীর একটি বিষয় আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। সেটি হলো তার সময়মতো সেটে আসা। বুবলীর কাছে এ সহযোগিতাটা বেশি পেয়েছি। একজন শিল্পী যখন ঠিকঠাক শিডিউল দেন, কাজে আসেন, সেক্ষেত্রে পরিচালকের জন্য কাজটি সহজ হয়ে যায়। আর তার অভিনয় দর্শকই বিচার করবেন। তবে দর্শকের ভালো লাগবে এটা বলতে পারি। তিনি আরো বলেন, আদরের চরিত্রটি দর্শকের এক ধরনের কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে। ছেলেটি এতটা ভালো কাজ করেছে বলে বোঝানো সম্ভব না। আমি ওর কাছে যা চেয়েছি সেটি ভালোমতোই করেছে। ঢালিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তালাশ ভিন্ন আমেজ আনবে।

মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিগুলো নিয়ে সৈকত নাসির বলেন, ‘ভিন্ন স্বাদের একটি ছবি বানাতে চেয়েছি। আমার নতুন চারটি ছবি চার ঘরানার। দর্শক একটির সঙ্গে আরেকটি মেলাতে পারবেন না। তালাশ-এর গল্প নিয়ে এখন সেভাবে বলতে চাই না। তবে গল্প ও গান সিনেমাপ্রেমীদের হূদয়ে গেঁথে থাকবে আমার বিশ্বাস।’

প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনায় আছে মাসুদ রানা সিনেমাটি। কাজী আনোয়ার হোসেনের বেস্ট সেলার মাসুদ রানা সিরিজের চরিত্র এটি। বহুকাল ধরেই এদেশের পাঠকের কাছে প্রিয় চরিত্র মাসুদ রানা। জানা গেল সিনেমাটা এ বছরের শেষ দিকে মুক্তি দেয়া হবে। সৈকত নাসির বলেন, ‘এ বছরের শেষ মাসে মুক্তি দেয়া হবে মাসুদ রানা সিনেমা। আমাদের প্রায় সব কাজ শেষ দিকে। কিছু কাজ আছে, যা দেশের বাইরে করতে হবে। আশা করছি, যে সময় দেয়া আছে, সে সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

এ তো গেল প্রস্তুতকৃত ছবির সংবাদ। আগামীতে কী নির্মাণ করছেন? জানতে চাইলে নাসির বলেন, ‘সামনে কী কাজ আছে এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না। এখন আপাতত এ ছবিগুলোর মুক্তি নিয়েই ভাবছি। মুক্তির প্রক্রিয়া চলাকালীন নতুন সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

তবে আগামীতেও নির্মাণে বিষয় বৈচিত্র্যের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় ভিন্ন ভিন্ন জনরা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আমার ক্যাসিনো, তালাশ, বর্ডার, মাসুদ রানা প্রত্যেকটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন জনরার।’