বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সাবেক স্বামী ছিলেন শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুর। বৃহস্পতিবার লন্ডনে হার্ট অ্যাটাকের মারা যান তিনি। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পোলো খেলার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান সঞ্জয়। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, কোনোভাবে একটি মৌমাছি গিলে ফেলেছিলেন তিনি। সে যা-ই হোক, ৫৩ বছর বয়সে মারা গেলেন এ শিল্পপতি।
কারিশমার সঙ্গে ২০০৩ সালে বিয়ে হয় সঞ্জয় কাপুরের। কারিশমা ছিলেন সঞ্জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০১৪ সালে তারা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সঞ্জয় ও কারিশমার দুই সন্তান সামিরা ও কিয়ান। বিচ্ছেদের পর সঞ্জয় বিয়ে করেন প্রিয়া সচদেবকে। প্রিয়া ও সঞ্জয়ের একটি সন্তান হয়। এছাড়া প্রিয়ার আগের সন্তানকে দত্তক নেন সঞ্জয়।
সন্তানদের জন্য সবসময় ভাবতেন সঞ্জয়। সে অনুসারে পরিকল্পনা করতেন। সামিরা ও কিয়ানের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সঞ্জয়। এছাড়া প্রিয়া সচদেব নানা সময় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঞ্জয় ও তার সন্তানদের ছবি পোস্ট করেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বলেছিলেন, ‘আমার কাছে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের একসঙ্গে থাকা জরুরি। সেখানেই সঞ্জয় জানিয়েছিলেন বাবা-মায়ের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে তিনি ও প্রিয়া কোচিং সেশন নিচ্ছেন। তারা একজন প্যারেন্টিং এক্সপার্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। নিয়মিত তারা ওই ব্যক্তির কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন।’
সঞ্জয় কাপুর বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন। ফোর্বসের দেয়া তথ্যানুসারে, মৃত্যুর সময় তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১২০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১০ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। এ হিসাবে তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৭০৩তম। কিছুদিন আগে তার পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানির মোট মূল্যমান দেখা গিয়েছিল ৪০ হাজার কোটি রুপি। তার সনা কমস্টার কোম্পানি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ তৈরি করত। এগুলো বিশ্বের সেরা ১০টি গাড়ি কোম্পানির মধ্যে সাতটির কাছে যেত। তাকে ইভি (ইলেকট্রনিক ভেহিকল) রেভল্যুশনের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তবে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে বেশ বড়সড় অভিযোগ ছিল কারিশমা কাপুরের। বিচ্ছেদের আবেদনে প্রাথমিকভাবে তেমন কিছু না বললেও পরে তিনি পারিবারিক সহিংসতার শিকার বলে জানান। সঞ্জয় ও তার মা কারিশমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ এনেছিলেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










