ঢাকাই সিনেমার অন্যতম নায়ক সালমান শাহ। নব্বইয়ের দশকের এ অভিনেতা এ প্রজন্মের তারকাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। মৃত্যুর দুই দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তার জনপ্রিয়তায় চিড় ধরেনি। আজ সালমান শাহর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে দেশের বিনোদন অঙ্গনের অনেক জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতার সঙ্গে চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সালমান শাহ। সিনেমাগুলো হচ্ছে বাদল খন্দকারের ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, দীলিপ সোমের ‘মহামিলন’, শিবলী সাদিকের ‘মায়ের অধিকার’ ও জাকির হোসেন রাজুর ‘জীবন সংসার’। দুটি সিনেমায় সালমানের মায়ের ভূমিকায় ও দুটি সিনেমায় সালমানের ভাবির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ববিতা। আজকের দিনে সালমান শাহকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ববিতা বলেন, ‘‌‌দীলিপ সোমের মহামিলন সিনেমার শুটিং চলছিল কক্সবাজারে। একটি দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল পাহাড়ের ওপর। আমার হাতে পিস্তল ছিল। দৃশ্যটিতে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলাম আমি, রাজীব ভাই, শারমিন, সালমান শাহ, শাবনূর। সে দৃশ্য ধারণের নানা সময় আমি শুটিংয়ে আনা অন্য একটি চেয়ারে বসি। কারণ হোটেল থেকে আমার চেয়ারটি নিতে মনে ছিল না। সালমান বিষয়টি খেয়াল করে এবং শুটিংয়ে তার নেয়া চেয়ারটি আমাকে গিফট করে। আমি না করার পরও সালমান তার নিজের ব্যবহৃত চেয়ারটি তখনই আমাকে গিফট করে। সে চেয়ার দীর্ঘদিন আমার কাছে সংরক্ষিত ছিল।’

সালমান শাহ নব্বইয়ের দশকে রুপালি জগতে অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধারা নিয়ে আসেন। তার ফ্যাশন সচেতনতার জন্যও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। এছাড়া সালমান শাহ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জানতেন। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খুব কমসংখ্যক মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। সবে মাত্র দেশে চালু হয়েছে মোবাইলের ব্যবহার। সে সময়ই সালমান শাহ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। এ বিষয় নিয়ে ববিতা বলেন, ‘‌যখন মোবাইল ফোন প্রথম বাজারে এল তখন মোবাইল ফোনের আকার অনেক বড় ছিল। খুব কমসংখ্যক মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। সালমান শাহ এ দলে ছিল। আমিও যোগাযোগের সুবিধার কথা ভেবে মোবাইল ফোন নিই, তবে শুরুতে বেশ জটিলতায় পড়তে হয়েছে। সালমানই আমাকে একটি চিরকুটে মোবাইল ব্যবহার করার পদ্ধতি প্রথম শিখিয়ে দিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে মোবাইল ব্যবহার করা আমার কাছে বেশ সহজ হয়ে গিয়েছিল। সালমানের নিজের হাতের লেখা সে চিরকুট এখনো আমার কাছে যত্নে রাখা আছে। সে চিরকুটে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সালমানকে খুঁজে বেড়াই। সালমান একটি কথা আমাকে প্রায়ই বলত যে আপনি আমার আপন মা না হলেও আপনি আমার সুইট মা। মা ছাড়া সে আমাকে অন্য কিছুই আর ডাকত না। সত্যিই এতটা বছর পরও তাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে যাই।’ 

একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি সালমানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন জবাবে ববিতা বলেন, ‘সত্যি বলতে সালমান শাহ অনেক বেশি ভালো অভিনেতা ছিল। পোশাকে ফ্যাশনে নতুনত্ব তো সৃষ্টি করেছিলই, সেটা সবাই দেখেছে এবং তার ফ্যাশন এখনো অনেকেই ফলো করে সাধারণ জীবনেও, শিল্পী জীবনেও। এটা অনেক বড় বিষয়। আর অভিনেতা হিসেবে সালমান নিজেই ছিল অনন্য। তার মতো অভিনেতার অকালপ্রয়াণ সত্যিই আমাদের জন্য অনেক বেদনার, অনেক কষ্টের। এ কষ্ট আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে আরো দীর্ঘদিন। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার আত্মার শান্তি দেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন, আমিন।’ 

মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’ দিয়ে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরো বেশকিছু নাটকে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিলেন সালমান। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি এ অভিনেতাকে। একের পর সিনেমায় অভিনয় করেছেন। চার বছরের সালমান শাহ অভিনয় করেছিলেন ২৭টি সিনেমায়।