বেশ কয়েকটি কারণে এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব বিশেষ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে একটি হলো জনি ডেপের সিনেমা ‘‌জ্যঁ দ্যু ব্যারি’ দিয়ে এবারের উৎসবের সূচনা। বহু ঝড় ঝাপটার পর ফিরলেন জনি ডেপ। ম্যেওয়েন লা বাস্কা পরিচালিত সিনেমাটি জনি ডেপকে নতুন করে ফিরিয়েছে। অন্যদিকে এবারের উৎসবেই প্রিমিয়ার হলো মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুনের প্রিমিয়ার। বহু বছর পর কানে ফিরেছেন মার্টিন স্করসেসি। সিনেমাটিও বহুল প্রতীক্ষিত। ওসেজ মার্ডার নিয়ে নির্মাণ করেছেন সিনেমাটি। তেলের জন্য কেমন করে একটি জাতি নির্যাতনের শিকার হয় সে গল্প এসেছে সিনেমায়। স্করসেসির সিনেমা মানেই অন্যকিছু আর এবারের সিনেমাটি কানে তৈরি করল ইতিহাস। ৯ মিনিটের স্ট্যান্ডিং অভেশন পেয়েছে কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন। কানের ইতিহাসে এটিই দীর্ঘতম স্ট্যান্ডিং অভেশন।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এক ফ্রেমে কিংবদন্তিদের দেখল কান উৎসব ও বিশ্বের দর্শক। সিনেমার প্রিমিয়ার শুরু হওয়ার আগে রেড কার্পেটে পাশাপাশি হেঁটেছেন ডিক্যাপ্রিও, রবার্ট ডি নিরো ও জেসি প্লেমন্স। সঙ্গে ছিলেন পরিচালক মার্টিন স্করসেসিও। স্করসেসিকে বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছেন কেট ব্ল্যানচেট। এরপর সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুনের দৈর্ঘ্য ৩ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। আজকাল এমন দীর্ঘ সিনেমা দুর্লভ। কিন্তু সে সিনেমাই প্রিমিয়ারে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। সিনেমা শেষ হওয়ার পর তুমুল করতালিতে ভেসে যায় হল। প্রায় ৯ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থেকে সিনেমা, এর পরিচালক ও কলাকুশলীদের সম্মান জানানো হয়।

করতালি থামার পর স্করসেসি মাইক্রোফোন হাতে নেন। তিনি বলেন, ‘‌ওসেজকে ধন্যবাদ। এছাড়া কৃতজ্ঞতা জানাই এ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে। আমার পুরনো বন্ধু বব ও লিও, জেসি ও লিলিকেও ধন্যবাদ। দুই বছর ধরে ওকলাহোমায় এ সিনেমার শুটিং করেছি।’ সিনেমাটি নিয়ে রীতিমতো হোমওয়ার্ক করেছেন মার্টিন। অন্যদিকে এমন ক্যানভাসের একটি সিনেমা নির্মাণে সময়ও লেগেছে অনেক। পুরোটা সময় অ্যাপল তাকে সহায়তা দিয়েছে। এ নিয়ে স্করসেসি বলেন, ‘‌অনেকটা সময় লেগেছে কিন্তু অ্যাপল আমাদের জন্য ভালো কাজ করেছে। আমি নিউইয়র্কের বাসিন্দা বলে এ সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে ভিন্ন একটি দুনিয়া দেখেছি। ভাগ্য ভালো সে দুনিয়া দেখতে পেয়েছি।’

কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন এ বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা। স্করসেসির এভাবে ফেরা নিয়ে হলিউডের দর্শকের আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে এ সিনেমার মধ্য দিয়েই বহুদিন পর ডিক্যাপ্রিও ও ডি নিরোকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা গেল। সিনেমাটি নিয়ে এর মধ্যেই প্রশংসা করেছেন সিনেমা সমালোচকরা। এর মধ্যে ভ্যারাইটিতে পিটার ডিবার্গ লিখেছেন, ‘‌বইটি (ডেভিড গ্র্যানের লেখা মূল বই থেকে সিনেমার গল্প) হত্যার গল্প নিয়ে। কিন্তু স্করসেসি এখানে কেবল হত্যার কথা বলেন না। তিনি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করেন হত্যা কেন হলো। কারা এবং কী কারণে হত্যা করল।’

সিনেমায় স্করসেসি বরাবরই প্রশ্ন করে থাকেন। তার ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে আইরিশম্যান কোনোটিই সহজ গল্প না। ‘‌ফ্লাওয়ার মুন’ সে ধারায় পরিপূর্ণ সিনেমার মধ্যে প্রশ্ন করা ও ভাবতে বাধ্য করার ধারার একটি নতুন সংযোজন। কানের দর্শক সে কারণেই সিনেমাটিকে এভাবে সম্মান জানিয়েছে।

সূত্র: ভ্যারাইটি