অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের মতো বক্স অফিসেও লেগেছিল কভিড-১৯ অতিমারীর ঝাপটা। অতিমারী চলে গেলেও সে ধাক্কা কমেনি। এর মধ্যে কোনো কোনো সিনেমা ভালো ব্যবসা করলেও অতিমারী-পূর্ব অবস্থানে ফেরা সহজ হচ্ছে না। হলিউডে নিয়মিত মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা। দর্শক আসছে কিন্তু সেই পুরনো সুরটি যেন নেই। মার্ভেলের জনপ্রিয় সিনেমাগুলো প্রথম সপ্তাহে ভালো ব্যবসা করলেও ধীরে ধীরে কমে আসে দর্শক। একই অবস্থা অন্যান্য সিনেমার ক্ষেত্রেও। তাহলে কি পুরনো অবস্থায় আর ফেরা যাবে না? এ নিয়ে মার্কাস করপোরেশনের সিইও গ্রেগ মার্কাস সম্প্রতি তার মত প্রকাশ করেছেন। এ সময়ের সিনেমার বৈচিত্র্য ও ব্যবসায়িক অবস্থা প্রমাণ করে এখনো আগের মতো স্বতঃস্ফূর্ত সিনেমা দেখা ও ব্যবসার সময় আসেনি।
মার্কাস করপোরেশন একটি থিয়েটার সার্কিট ও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ওয়াল স্ট্রিট অ্যানালিটিকসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রেগর জানান, মোটামুটি ভালো চলছে সবকিছু। এ ম্যান কলড ওটোর মতো ছোট পরিসরের সিনেমাও দেখতে আসছে দর্শক। অর্থাৎ সিনেমা দেখতে আসার ব্যাপারটি আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে। তিনি এর সঙ্গে যুক্ত করেন যে সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে মাঝখানে একটা খামতি তৈরি হয়েছে। সেটি কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। তার মতে, এখন হুট করে নৈশভোজে ডাকলে তো চলবে না। আমাদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে। অর্থাৎ অতিমারীর কারণে সিনেমা দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা কাটানো প্রয়োজন।
মার্কাস করপোরেশনের হিসাব অনুসারে আয়ের অবস্থা মিশ্র। ২০২১ সালের তুলনায় গত কয়েক মাসে আয় কমে গেছে। এর কারণ সিনেমা দেখতে আসা দর্শকের সংখ্যা কম। মূলত অতিমারীর পরপর স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম যেভাবে শুরু করেছিল বা যে আশা জাগিয়েছিল সে তুলনায় সিনেমাগুলো এখন কম ব্যবসা করছে। তার দেয়া তথ্যানুসারে, গত বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৪ শতাংশ। কিছু সিনেমা (অ্যাভাটার, দ্য ব্যাটম্যান, ডক্টর স্ট্রেঞ্জসহ মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের অন্যান্য সিনেমা) ভালো ব্যবসা করলেও অন্যগুলো পিছিয়ে। অস্কারের তালিকায় থাকা সিনেমাগুলো পর্যন্ত ভালো ব্যবসায় নেই। এ ধরনের সিনেমা অবশ্য কখনই অনেক বেশি ব্যবসা করে না, তবু তাদের ব্যবসাও যেন একটু বেশিই কম।
এসব মিলিয়ে মার্কাস বলতে চান এখনই সিনেমা ভালো ব্যবসা করার সময়ে পৌঁছেনি। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নিয়ে আমি এখনই কথা বলতে চাই না। সে সময় এখনো আসেনি। মূলত কিছুদিনের মধ্যে হঠাৎ সিনেমা নিয়ে মানুষের ধারণা বদলে গেছে।’ বক্স অফিসের আয়ের উৎস দর্শক। তারা থিয়েটারে এসে সিনেমা দেখবেন এবং বক্স অফিসে আয় হবে। কিন্তু ওটিটির কারণে এখন অনেক দর্শকই আর থিয়েটারে যেতে চান না। ঘরে বসে সিনেমা দেখার সুবিধা আছে। নেটফ্লিক্স, প্রাইমসহ অন্যান্য প্লাটফর্ম তাই বাড়িয়ে চলছে তাদের সাবস্ক্রাইবার। অন্যদিকে কমছে থিয়েটারের আয়। মার্কাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্ট্রিমিংয়ে এখন তুলনামূলক অনেক বেশি ব্যবসা করা সম্ভব।’
সিনেমা বক্স অফিসে কেমন ব্যবসা করছে তার পেছনে সরবরাহ চেইনেরও একটা ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে কোম্পানির সিএফও বলেন, ‘সরবরাহ চেইনের কারণে ২০২৩ সালে সিনেমার ব্যবসা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ নেই। বিশেষত অতিমারী-পূর্ববর্তী অবস্থায় যাওয়া সহজ হবে না।’ ২০১৯ সালে অতিমারীর আগে সর্বশেষ ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় ছিল বক্স অফিস। সে বছর তাদের মোট আয় ছিল ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে ব্যবসা কমে গেছে। সে বছর আয় হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার।
তবে এর মধ্যেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সিনেমা নির্মাণে নিরুৎসাহিত নন কোনো নির্মাতা। প্রডাকশন হাউজগুলোও সর্বোচ্চ সহায়তার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মার্ভেল এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছে অনেকটাই। ডিসিও নতুন করে শুরু করছে। এর বাইরে ছোট ছোট সিনেমাও তৈরি হচ্ছে। মার্কাস করপোরেশন তাই আশাবাদী। তারা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে কী অবস্থা হয় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে আয়ের অংক খুব যে বাড়বে এমন না। কিন্তু ধীরে ধীরে উন্নতির আশা তারা করছেন। মার্কাস বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাব, তবে ফেরার পথটা সোজা হবে না।’
সূত্র: ডেডলাইন










