সকাল হতেই শিল্পীরা ছুটে আসছেন এফডিসিতে। আড্ডা দিচ্ছেন।  গল্প করছেন। সবার গল্পে ঘুরেফিরে আসছে আসন্ন শিল্পী সমিতি নির্বাচন। ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। কে কোন প্যানেলে, কার কেমন ভোট, এসব নিয়েই মেতে আছেন সবাই। গতকাল বেলা ১১টায় দেখা গেল শিল্পী সমিতির কার্যালয় ঘিরে চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পীদের জটলা। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান সকালে এফডিসিতে আসেন। সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজানো নিয়ে ব্যস্ত দেখা যায় তাকে। এ সময় বণিক বার্তাকে জায়েদ খান বলেন, ‘আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি। প্যানেল সাজাই। তারপর সবকিছু জানাব।’

চিত্রনায়ক অমিত হাসান, আলেকজান্ডার বো, জয় চৌধুরীসহ বেশকিছু শিল্পীকে দেখা যায় জায়েদ খানের পাশে। চলতি কমিটিতে কার্যকরী পরিষদ সদস্য হিসেবে আছেন নায়ক আলেকজান্ডার। তিনি মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো নির্বাচন করবেন। বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র নেয়া হয়েছে। তবে এখনো প্যানেল প্রস্তুত করা হয়নি। আমি কোন পদে নির্বাচন করব এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে অবশ্যই ওপরের দিকের কোনো পদে নির্বাচন করব।’ মিশা-জায়েদ প্যানেলের অনেককেই এফডিসিতে দেখা গেলেও মিশা সওদাগরকে দেখা যায়নি। বেলা ২টার দিকে জায়েদ খান এফডিসি থেকে বের হয়ে যান। বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি একটি জরুরি কাজে গুলশান এসেছি। কাজ সেরে এফডিসিতে যাব।’ মিশা-জায়েদ খান প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন এমন একজন শিল্পী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘জায়েদ ভাই মিশা সওদাগর ভাইয়ের বাসায় গেছেন। অভিনেত্রী অঞ্জনা ও রোজিনার মধ্যে কাকে কোন পদ দেয়া হবে তা নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আমাদের কমিটিতে সিনিয়র শিল্পীর সংখ্যা বেশি। তাই তাদের পেছনে দৌড়াতে হচ্ছে।’  

কৌতুক অভিনেতা আফজাল শরীফ এফডিসিতে আসেন দুপুরে। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আকতার প্যানেলের হয়ে নির্বাচন করবেন তিনি। এফডিসির ক্যান্টিনের সামনে দেখা যায় আরেক জটলা। সেখানে গাড়ি থেকে নামেন। শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাদের প্যানেলের লোকজন এলে ক্যান্টিনের সামনের মাঠে জায়গা নিতে বলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন কখন আসবেন জানতে চাইলে আফজাল শরীফ বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই সম্ভবত আসবেন না। তবে নিপুণ আসবেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে।’ কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলে চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, ফাইট ডিরেক্টর আরমানসহ হেভিওয়েট প্রার্থী থাকবেন বলে জানান।

গতকাল বিকালে প্যানেলের অন্য সদস্যদের নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আকতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়ক সাইমন, ইমন, নিরব, জেসমিন, গাঙ্গুয়া, আরমান, পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, বদিউল আলম খোকনসহ অনেকে। নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুন ও তার দুই সহযোগী বিএইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের সদস্যদের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন। ইলিয়াস কাঞ্চন সহশিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আশা করছি আপনাদের সবার আন্তরিকতা পাব। আমরা শিল্পীদের জন্য কাজ করতে চাই।’ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ বলেন, ‘একটি কার্যকরী প্যানেল নিয়ে ভালো কাজের স্বপ্ন দেখে আমরা একসঙ্গে হয়েছি। আপনাদের শুভেচ্ছা রাখবেন।’

অভিনেত্রী নাসরিন নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচন করলে শিল্পীদের জন্য কাজ করা যায়। এজন্যই নির্বাচন করছি। দুই প্যানেলেই ভালো ভালো শিল্পী আছেন। সবাই যোগ্য। সবাই আমার প্রিয়জন। এজন্য এক প্যানেল রেখে আরেক প্যানেলে না গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আমি এর আগে একটি বড় প্যানেল থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। শিল্পীদের জন্য অনেক কাজ করেছি। এবারো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’    

গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র কেনার সময় বেঁধে দিয়েছে শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশন। এ সময়ের মধ্যেই সব শিল্পী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অভিনেতা পীরজাদা হারুন জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২৮। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১২ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ও খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১৩ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ১৫ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ১৬ জানুয়ারি। প্রসঙ্গত, ২৮ জানুয়ারি হবে সমিতির ২০২২-২৪ দ্বিবার্ষিক মেয়াদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে বর্তমান কমিটি মিশা সওদাগর-জায়েদ প্যানেলের বিপক্ষে লড়বে ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল। নির্বাচনে প্রধান কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেতা পীরজাদা হারুন। তার সঙ্গে থাকবেন বিএইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় দেখা যাবে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে। এ বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে মোহাম্মদ হোসেন জেমী ও মোহাম্মদ হোসেনকে।