উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েলের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ছয় বাংলাদেশী নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর দারনায় আরো কিছুসংখ্যক বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নিহত ছয় বাংলাদেশীর মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—রাজবাড়ি জেলার শাহীন ও সুজন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার মামুন ও শিহাব। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আরো ২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের অবস্থা জানার জন্য বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আইসিআরসি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এদের মধ্যে দারনা হাসপাতালে কর্মরত একজন বাংলাদেশী নার্সের মাধ্যম হতে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ওই শহরে ছয়জন বাংলাদেশী নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ সংরক্ষণ এবং আটকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের উদ্ধারের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যসহ উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও অজ্ঞাত ০২ (দুই) জনের নাম ও ঠিকানা জানার জন্য দূতাবাস হতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দূতাবাস হতে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় গমনের জন্য ত্রিপলীস্থ সরকারের নিকট অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে দূতাবাস হতে একটি প্রতিনিধি দল উক্ত দুর্যোগ কবলিত এলাকায় গমন করবে।
দূতাবাস বলছে, লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকসহ সকলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল ও বন্যার তাণ্ডবে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে দারনা, সাহাত, আল-বাইদা, আল-মার্জ শহর ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে দারনা বাঁধে ভয়াবহ ধসে সৃষ্ট বন্যায়ৃ কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।










