একুশ শতক বডি পজিটিভিটির যুগ। নিজের শরীর যেমন, তাকেই ইতিবাচকভাবে দেখার নাম বডি পজিটিভিটি। এ নিয়ে এখন নানা অ্যাক্টিভিজমও হয়। কিন্তু যারা শোবিজের সঙ্গে জড়িত তাদের মুখ ও শরীরকে নানাভাবে রূপান্তর করতে দেখা যায়। সেটা হতে পারে শরীরচর্চা করে, হতে পারে এক পরত মেকআপ দিয়ে। এখন আবার যেমন বডি পজিটিভিটির যুগ, তেমনি শরীর রূপান্তরেরও হিড়িক দেখা যায়। প্লাস্টিক সার্জারি খুবই সাধারণ একটা বিষয়। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন প্রথাগত সুন্দর মুখ না নিয়েও অনেকে নায়ক হয়েছেন। যেমন শত্রুঘ্ন সিনহা। তার মুখের কাটা দাগটি নিয়ে নানা সময় ট্রল হয়েছে। তিনি সার্জারিও করতে চেয়েছিলেন কিন্তু নিষেধ করেছিলেন দেব আনন্দ।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার শুরু করার দিনগুলোয় নিজের মুখ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন শত্রুঘ্ন। তিনি ভেবেছিলেন সার্জারি করে মুখের দাগটা ঠিক করবেন। সম্প্রতি আরবাজ খানের টকশোতে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান দেব আনন্দ তাকে বলেছিলেন এ দাগই তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘‌আমি মামাকে শেভ করতে দেখতাম। দেখে আমারো মনে হলো শেভ করব। সেই কাল্পনিক দাড়ি কাটতে গিয়ে এ দশা। আমি প্রথমে মামাতো বোনের চিবুক কেটে ফেলেছি, তারপর নিজের।’

ছেলেবেলার এসব দাগ সহজেই বসে যায়। তারপর বড় বেলায় এ নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘‌আমাকে ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। তারপর আর কিছু না। এর পরে বড় হয়ে আমি বিষয়টা নিয়ে সমস্যায় পড়ি। সিনেমায় অভিনয় করতে এসে আমার মনে হয়েছিল দাগটা ঠিক করা দরকার। আমি একজন প্লাস্টিক সার্জনের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম।’

কথা বলতে বলতে শত্রুঘ্ন সিনহা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘‌সে সময় আমি নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম। আমি দেব আনন্দের সঙ্গে মাঝে মাঝেই দেখা করতাম। তিনি এ সময় আমাকে বলেন যে দাগটা ঠিক করার দরকার নেই। তিনি নিজের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন তার দাঁতের মধ্যে ফাঁক আছে আর সেটাই হয়ে উঠেছে ফ্যাশনেবল। আমি নিজের চিবুকের দাগ নিয়ে বিব্রত হতাম। ভাবতাম কাটা ফাটা চেহারা নিয়ে সিনেমা করতে এসেছি, আমি কেমন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করব!’ কিন্তু শত্রুঘ্ন সিনহার নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে বেশি সময় লাগেনি। তবে সেখানেও নানা সময়ে প্রতিবন্ধকতা এসেছে। যশ চোপড়ার কালা পাত্থরে তিনি অভিনয় করেছিলেন মঙ্গল সিং চরিত্রে। কিন্তু যশ চোপড়ার পরিচিত অনেক তারকাই চায়নি শত্রুঘ্ন সেখানে অভিনয় করেন। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘সেলিম-জাভেদ আমার কথা মাথায় রেখেই মঙ্গল সিং চরিত্রটা লিখেছিলেন। কিন্তু তবু যশ চোপড়া দ্বিধায় ছিলেন। অনেকেই চায়নি চরিত্রটি আমি করি।’

এ নিয়ে তাকে নানা রকম শর্ত দেয়া হয়েছিল। সেলিম খানের কথা স্মরণ করে সিনহা বলেন, ‘‌তিনি আমাকে বলেছিলেন কোনো শর্ত মেনে নিয়ে হলেও সিনেমাটা আমার করা উচিত। এর মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার বদলে যাবে। এটা একটা অসাধারণ সিনেমা হবে আর লোকে আমাকে মনে রাখবে।’ 

সূত্র: বলিউড বাবল