ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ সন্ধ্যায় বসছে দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক আসর ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠান-২০২০’। এ উপলক্ষে জমকালো এক আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এবার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। আজকের আয়োজনে অংশ নেবেন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় সব তারকা। এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন রোজিনা, অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, ইমন, দীঘি, সাইমন, তমা মির্জা, পূজা চেরীসহ বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী।
চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয় বাংলাদেশ সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এবার আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন আনোয়ারা বেগম ও রাইসুল ইসলাম আসাদ। নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘গোর’ সর্বোচ্চ ১১টি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। আটটি পুরস্কার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘বিশ্বসুন্দরী’। এবার যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে গোর ও বিশ্বসুন্দরী। ২০২০ সালে ২৭টি শাখায় ২৮ জন শিল্পী ও কলাকুশলী এ পুরস্কার পেয়েছেন।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০প্রাপ্ত অন্যরা হলেন শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সরকারি অনুদানের ছবি জান্নাতুল ফেরদৌসের আড়ং, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র সৈয়দ আশিক রহমানের বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী রাকায়েত (গোর), শ্রেষ্ঠ
অভিনেতা প্রধান চরিত্রে সিয়াম (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
প্রধান অভিনেত্রী রোজালিন দীপান্বিতা মার্টিন (গোর), শ্রেষ্ঠ
অভিনেতা পার্শ্বচরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
অভিনেত্রী পার্শ্বচরিত্রে অপর্ণা ঘোষ (গণ্ডি), শ্রেষ্ঠ
অভিনেতা খল চরিত্রে মিশা সওদাগর (বীর), শ্রেষ্ঠ
শিশুশিল্পী মুগ্ধতা মোরশেদ ঋদ্ধি (গণ্ডি), শিশুশিল্পী
শাখায় বিশেষ পুরস্কার মো. শাহাদৎ হোসেন বাঁধন (আড়ং), শ্রেষ্ঠ
সংগীত পরিচালক বেলাল খান (হূদয় জুড়ে), শ্রেষ্ঠ
নৃত্য পরিচালক প্রয়াত সহিদুর রহমান (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
গায়ক ইমরান মাহমুদুল (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
গায়িকা যুগ্মভাবে দিলশাদ নাহার কনা (বিশ্বসুন্দরী), সোমনূর
মনির কোনাল (বীর), শ্রেষ্ঠ
গীতিকার কবির বকুল (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
সুরকার ইমরান মাহমুদুল (বিশ্বসুন্দরী), শ্রেষ্ঠ
কাহিনীকার গাজী রাকায়েত (গোর), শ্রেষ্ঠ
চিত্রনাট্যকার গাজী রাকায়েত (গোর), শ্রেষ্ঠ
সংলাপ রচয়িতা ফাখরুল আরেফীন খান (গণ্ডি), শ্রেষ্ঠ
সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক উত্তম কুমার গুহ (গোর), শ্রেষ্ঠ
চিত্রগ্রাহক যুগ্মভাবে পঙ্কজ পালিত ও মাহবুব উল্লাহ নিয়াজ (গোর), শ্রেষ্ঠ
শব্দগ্রাহক কাজী সেলিম আহম্মেদ (গোর), শ্রেষ্ঠ
পোশাক ও সাজসজ্জা এনামতারা বেগম (গোর), শ্রেষ্ঠ
মেকআপম্যান মোহাম্মদ আলী বাবুল (গোর)। শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা হিসেবে কাউকে পুরস্কৃত করা হয়নি। ২০২০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা পড়েছিল মোট ১৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ছয়টি প্রামাণ্যচিত্র।
এর আগে শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কার জেতা গাজী রাকায়েত তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি পেলে ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগছে। স্বীকৃতি একজন মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। আমার ক্ষেত্রেও তাই। আবার এটাও ঠিক যে শিল্পের বিচার কখনো পুরস্কার দিয়ে হয় না। আমার কাছে জীবনের চেয়ে শিল্প বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আগামীতেও তাই পাবে। আমি পড়ালেখা করেছি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই পেশায় থাকলে এক জীবনে অনেক টাকা কামাতে পারতাম। কিন্তু আমাকে তা টানেনি। আমাকে টেনেছে শিল্প। আমার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার সিনেমা। সেজন্য সিনেমা বানাই। এখন পুরস্কার পাওয়ার পর আরো বেশি দর্শক সিনেমাটি দেখবে। তারা বেশি বেশি নামটি জানবে। এটা অবশ্যই বড় আনন্দের। এ দৃষ্টিকোণ থেকে পুরস্কার পেয়ে আমি খুশি। এবারের জমকালো আয়োজনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কে বা কারা হবেন এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, তা নিয়ে থাকে জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে জানা গেছে, এবারের আয়োজন উপস্থাপনা করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। এ বিষয়ে ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা রিহার্সাল করেছি। পরিকল্পনা যেভাবে দেখছি, এবার তো চমক থাকবে।’ এবার চমক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আয়োজনে চমক আছে। চমক দেখার জন্য তো অপেক্ষা করতে হবে। অনুষ্ঠানের দিন সবাই তা দেখতে পাবেন। এবারের অনুষ্ঠান একেবারে ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমন্ত্রিত অতিথিরা অসাধারণ একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।’










