হলিউড এখন মেতে আছে দুটি সিনেমা নিয়ে। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে গ্রেটা গেরউইগ পরিচালিত ‘‌বারবি’ ও ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘‌ওপেনহাইমার’। রীতমতো দুটি দুই মেরুর সিনেমা। বারবি অনেকটাই ডিজনিল্যান্ড ঘরানার সিনেমা। ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমাটি অনেকটাই পরিণত। সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহী পাঁড় সিনেমাভক্তরা। পাশাপাশি একটি ভিন্ন শ্রেণীও আছে যারা নোলানের ভক্ত। অন্যদিকে বারবি তুলনামূলক ভিন্ন ধারার সিনেমা। এর প্রতি আগ্রহী মূলত নারী ও কিশোররা। বারবি ভিন্ন ধারার ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল প্রকাশ করে এবং তা অনেক আগে থেকেই। বারবি মূলত পুতুল হিসেবেই অনেক বেশি পরিচিত ছিল। এবার তা আসছে সিনেমায়। তবে ফ্যাশনে বারবরই প্রভাব অনেক আগে থেকেই ছিল।

গ্রেটা গেরউইগের সিনেমায় গোলাপি রঙের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে সিনেমাটি কেবল গোলাপি রঙেরই প্রতিনিধি নয়। এটি একটি বিস্তৃত পরিসরের ফ্যাশনের প্রতিনিধি। বর্তমানে বারবি দ্বারা প্রভাবিত সেলিব্রিটিদের মধ্যে লিজো ও ফ্লোরেন্স পিউকে দেখা যায়। আর সাম্প্রতিক ফ্যাশন হাউজ ভ্যালেন্টিনো একটি কালেকশন প্রকাশ করেছে। সেখানে বেশকিছু পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ দেখা গেছে। বিষয়টিকে ভ্যালেন্টিনো ‘‌বারবিকোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ‌বারবিকোর কথাটিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভ্যালেন্টিনো সেটিকে কাজে লাগিয়েই তাদের নতুন কালেকশন নিয়ে এসেছে। সিনেমা ও ভ্যালেন্টিনোর এ পদক্ষেপের পর বারবি ও বারবির ফ্যাশন নিয়ে নতুন করে আলাপ শুরু হলেও বারবি নিয়ে বহু আগে থেকেই আগ্রহ ছিল ফ্যাশনসচেতনদের।

বারবি ফ্যাশনের মূলধারায় ঢুকেছে একুশ শতকে। এ নিয়ে ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অব আর্টের ফ্যাশন হিস্টোরিয়ান ডারনেল জামাল বলেন, ‘‌আমি যদি ২০০০ সালের পরপর বারবি নিয়ে মানুষের আগ্রহ না দেখতাম, তাহলে বলতাম বারবির ফ্যাশনটা এখন ট্রেন্ড হিসেবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ফ্যাশনে বারবি ফিরে আসে কয়েক বছর পরপর। ফ্যাশনে বারবি প্রত্যক্ষ প্রভাব রাখতে শুরু করেছে একুশ শতক অর্থাৎ ২০০০ সালের পরই।’ 

বারবিকে নিয়ে গ্রেটা গেরউইগ সিনেমা নির্মাণ করে মুক্তি দিচ্ছেন এ বছর। কিন্তু বারবিকে নিয়ে এর আগে নানা ধরনের আলোচনা ও কাজ হয়েছে। ২০১৫ সালে তানিয়া লি স্টোন একটি বই লিখেছিলেন। ‘‌দ্য গুড, দ্য ব্যাড, অ্যান্ড দ্য বারবি: দ্য হিস্ট্রি অব আ ডল অ্যান্ড হার ইমপ্যাক্ট অন আস’ বইয়ে তিনি বারবির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে বারবি নামক পুতুলটি তৈরি হওয়ার পরই সেটি ফ্যাশনে প্রভাব রেখেছে। পুতুলটি তৈরি করেছিলেন রুথ হ্যান্ডলার। এ পুতুলের থিম ও তার পোশাকের মধ্য দিয়ে কিশোরী ও তরুণীরা নিজেদের স্বপ্নের ফ্যাশনের দিকে আগানোর চিন্তা করতে পেরেছিল। 

তানিয়া লি স্টোন লেখেন, ‘‌সে সময় নারীদের ফ্যাশন বা ফ্যাশনসংক্রান্ত চিন্তা বিস্তারের জায়গা বেশি ছিল না। রুথ এরপর একটি ত্রিমাত্রিক পুতুল তৈরি করলেন এবং তার মধ্য দিয়ে নারীরা ভাবতে শুরু করল এভাবেও তাদের ভালো লাগতে পারে।’ এ পুতুলের পোশাক ও স্টাইলের মধ্যে নতুন নতুন ধারণা আনতে শুরু করেন রুথ। এ নিয়ে তানিয়া বলেন, ‘‌তার পরিকল্পনা ছিল নারীদের মধ্যে একটা বোধ তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারা নতুন পোশাক, স্টাইল আইকন, অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারের কথা চিন্তা করবে, যা এক সময় ছিল কেবল স্বপ্ন।’

প্রাথমিক পর্যায়ে বারবির স্টাইলের ধরন, পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ ছিল ‘‌মেয়েলি’। তার ছিল পনিটেইল, চোখে দীর্ঘ আইল্যাশ। পাশাপাশি গোলাপি ও নীল রঙ বারবির কারণে জনপ্রিয় হয়। বিশেষত গোলাপিকে ‘‌ফেমিনিন’ হিসেবে তৈরি করার পেছনে বারবির প্রভাব আছে। পরবর্তী সময়ে এসব অনেকটাই চাপা পড়ে। কিন্তু বারবিকোর আসার পর তা আবার শুরু হয়।

বারবিকোর শুরু হয়েছিল হলিউড সেলিব্রিটিদের হাত ধরে এ শতকের প্রথম দশকে। ২০০১ সালে প্যারিস হিল্টন, ২০০৩ সালে ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে বারবির স্টাইলে দেখা গিয়েছিল। ২০১৪-১৫ সালে মিলান ফ্যাশন উইকে আলাদা করে বারবি স্টাইলের পোশাক পরে র‍্যাম্পে হেঁটেছিল মডেলরা। এরপর আরিয়ানা গ্রান্দে, ফ্লোরেন্স পিউ এমনকি অ্যানা হ্যাথাওয়ে, নিকি মিনাজকেও একাধিকবার দেখা গেছে বারবির সাজে। এ পুরো বিষয়কেই ‘‌বারবিকোর’ বলা হচ্ছে। গ্রেটা গেরউইগের ‘‌বারবি’ এ ধারায় অন্যতম বড় সংযোজন বলা চলে। মার্গো রবি ও রায়ান গসলিং অভিনীত সিনেমাটি বারবিকোরকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

টাইম ম্যাগাজিন অবলম্বনে আসরার আবেদিন