সিনেমার গানগুলো জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু সিনেমাটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ঋষি কাপুর অভিনীত কর্জ সিনেমার কথা। ভাগ্য সিনেমাটির পক্ষে ছিল না। দর্শকদের কাছ থেকে তা আশানুরূপ সাড়া পায়নি। সিনেমার প্রতি তাদের এ শীতল প্রতিক্রিয়া দেখে ঋষি কাপুর গভীর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন। তিনি আত্মজীবনীতে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন। আত্মজীবনীর নাম ‘খুল্লম খুল্লা: ঋষি কাপুর আনসেনসরড’। সেখানে কর্জকে ঘিরে তার হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। কর্জ মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ‘কুরবানি’ মুক্তি পায়। কুরবানির পরিচালক ছিলেন ফিরোজ খান। তিনি এতে অভিনয়ও করেছিলেন। ফিরোজ খানের কুরবানি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনার আড়ালে কর্জের সম্ভাবনা চাপা পড়ে যায়। কুরবানি সিনেমায় ফিরোজ খানের পাশাপাশি বলিউডের লাস্যময়ী অভিনেত্রী জিনাত আমান ও বিনোদ খান্নাকে দেখা যায়। কর্জ মাত্র এক সপ্তাহ থিয়েটারে চলেছিল। তারপর ‘কুরবানি’ ঝড়ে উড়ে যায় সিনেমাটি। এমনকি তার প্রচারেরও কোনো সুযোগ ছিল না। আত্মজীবনীতে এসব আলোচনার পর ঋষি লেখেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। গভীর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম।’ কর্জের ব্যর্থতায় তার মনোবল চরমভাবে ভেঙে পড়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কর্জের ব্যর্থতার পর আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই পারতাম না। শুটিং সেটে আমি রীতিমতো কাঁপতাম। মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থা হতো আমার। আমি আমার চেয়ারে বসে থাকতাম। কখনো মেকআপ রুমে গিয়ে পানি খেতাম।’
তখন সবে নীতু কাপুরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তিনি। তার কিছুদিনের মধ্যেই কর্জ ও কুরবানির এ লড়াই। এ নিয়ে ঋষি কাপুর বেশ বিধ্বস্ত ছিলেন। এমনকি তিনি এ ব্যর্থতার জন্য তার বিয়েকেও দোষারোপ করা শুরু করেছিলেন। তার মনে হয়েছিল বিয়ে করার কারণে তার ফ্যানবেজ কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ভেতরে আর এক বিন্দু আত্মবিশ্বাসও অবশিষ্ট ছিল না। কর্জের ভালো সম্ভাবনা ছিল। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম চমৎকার কাজ হবে বলে আমি ভেবেছিলাম। এর গান ও সংগীতায়োজন ছিল অনবদ্য। সিনেমার সম্পূর্ণ টিমও ছিল অনন্য। আমি ভেবেছিলাম কর্জ দারুণ সাফল্য পাবে। সিনেমাটি উচ্চকিত প্রশংসা পাবে বলে আমি আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হলো না। তাই আমি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।’
কর্জের পরিচালক ছিলেন সুভাষ ঘাই। সিনেমার ব্যর্থতায় তিনিও খুবই হতাশ হয়েছিলেন। কর্জের ব্যর্থতা তার সুনামে আঘাত হানে। সিনেমাটি সে সময়ের তুলনায় ১০ বছর এগিয়ে ছিল বলে জানান সুভাষ ঘাই। সিনেমা মুক্তির তিনদিন পর ঋষি কাপুরকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল বলে কর্জের পরিচালক জানান। এ প্রসঙ্গে মুম্বাই মিররকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুভাষ ঘাই বলেন, ‘রোববার আমি জানতে পারলাম যে ঋষিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যের জন্য সে কঠোর পরিশ্রম করেছিল। সিনেমাটি নিয়ে সে অনেক বেশি আশাবাদী ছিল।’
কর্জের সংগীত পরিচালনা করেছিলেন বলিউডের বিখ্যাত লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল জুটি। সিনেমার ‘ওম শান্তি ওম’ ও ‘এক হাসিনা থি’ গানগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৯৮০ সালে কর্জ মুক্তি পেয়েছিল।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










