মীরা নায়েরের সিনেমা ‘মনসুন ওয়েডিং’। মাত্র সাড়ে ৫ কোটি রুপিতে নির্মিত হয় সিনেমাটি। কিন্তু বক্স অফিসে সিনেমাটি পেছনে ফেলেছিল শাহরুখ ও আমির খানের সিনেমাকেও। নব্বইয়ের শুরু থেকেই শাহরুখ খান ভারতের বাইরে বলিউডের পতাকাবাহক ছিলেন। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে এর শুরু। অন্যদিকে আমির খানের সিনেমা সর্বোচ্চ ব্যবসা করত চীনে। কিন্তু ২০০১ সালে এসব হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছিলেন মীরা নায়ের।
২০০০ সালে সাবরিনা ধাওয়ান একটি চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। তিনি তখন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএফএ প্রোগ্রামে ছিলেন। এরপর মীরা নায়ের সে সিনেমা নির্মাণ করেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানির কিছু কোম্পানি সিনেমাটি প্রযোজনা করেছিল। সে সময় সিনেমার নির্মাণে খরচ হয়েছিল ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সিনেমায় কোনো তারকা ছিলেন না। অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, বিজয় রাজ, রজত কাপুর, সোনি রাজদান, কুলভূষণ খারবান্দা, শেফালি শাহ প্রমুখ। মনে হয়েছিল দেউলিয়া হবেন নির্মাতা, কিন্তু মুক্তির পর দেখা গেল ভিন্ন ঘটনা।

উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটি দারুণ পারফর্ম করে। সেখানেই আয় করে নিয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ‘বাহুবলী’র আগে এমন ব্যবসা ভারতীয় কোনো সিনেমা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে পায়নি। মোটের ওপর সিনেমাটি আয় করেছিল ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার (তৎকালীন ভারতীয় মুদ্রায় ১৪৫ কোটি রুপি)। এর বেশির ভাগই এসেছিল ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ও ‘দঙ্গল’ আসার আগে এটিই ছিল ভারতের বাইরে সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় সিনেমা।
২০০১ সালে শাহরুখ খানের দুটো সিনেমা মুক্তি পায়—‘অশোকা’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। দুটি সিনেমাই ভারতের বাইরে সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু দুই সিনেমা মিলে মোট আয় হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। একক কোনো সিনেমা মনসুন ওয়েডিংয়ের চেয়ে বেশি আয় করেনি। আমির খানের ‘লগান’ আয় করেছিল মাত্র ৩০ লাখ ডলার (১৩ কোটি রুপি)।
মূলত মনসুন ওয়েডিং প্রবাসে ভারতীয় বিয়ের চির পরিচিত আবহ নিয়ে এসেছিল। সেই সঙ্গে মীরা নায়েরের গল্প বলার ঢংটি প্রবাসীদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। তারা দেখেছিল নিজের দেশের উৎসবের সংস্কৃতি। ফলে সিনেমাটির প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল এবং তারা বারবার দেখেছে। দর্শকের জন্যই সিনেমাটি সফল হয়েছিল। মীরা নায়েরের ক্যারিয়ার এরপর থামেনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










