অভিনয়ে এসেছেন কম দিন হয়নি। আবার খুব বেশিও না। অনির্বাণ ভট্টাচার্য এরই মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। দারুণ অভিনয়ের পাশাপাশি বাচনভঙ্গি ও নায়কোচিত গ্ল্যামারের কারণেও তিনি জনপ্রিয়। নানামুখী প্রতিভার পাশাপাশি গত বছর তাকে পাওয়া গেছে নির্মাতা হিসেবে। হইচইয়ের ওয়েব সিরিজ মন্দার নির্মাণ করে প্রশংসিত হন অনর্বিাণ। এ সিরিজে গল্পের পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয় ও নির্মাণে মুগ্ধ হন সবাই। সম্প্রতি হইচইয়ে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে অনির্বাণ নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘‌বল্লভপুরের রূপকথা’। বাংলা থিয়েটারের কিংবদন্তি নাট্যকার বাদল সরকারের গল্প থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অনির্বাণ। ওটিটিতে স্ট্রিমিং শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় হলে চলেছে সিনেমাটি। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর পর এত সময় ধরে সিনেমা হলে চলা সাফল্যেরই বিষয়।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই দর্শক ও প্রযোজকদেরও ধারণা হয়েছিল যে অনির্বাণ এরপর পরিচালনাতেই সময় দেবেন। কিন্তু সে বিষয়ে সাফ ‘‌না’ করে দিয়েছেন অনির্বাণ। ‌বল্লভপুরের রূপকথা মুক্তির আগেই তিনি বলেছিলেন, অন্তত দুই বছর তিনি পরিচালনায় যাবেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও একই কথা জানিয়েছেন। অনির্বাণ বলেন, ‘‌অভিনয়ই আমার পেশা। অভিনয়েই বেশি সময় মনোযোগ দেব এখন।’

নিজেকে পরিচালক বলতে নারাজ অনির্বাণ। এমনকি তাকে এখন কৌশিক গাঙ্গুলি বা সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে তুলনার ব্যাপারটিকেও বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। নিজেকে বলেন ‘‌অ্যাকসিডেন্টাল পরিচালক’। আরো বলেন, ‘‌মাত্র দুটো কাজ মুক্তির পর কৌশিকদা বা সৃজিতের সঙ্গে তুলনা টানাটা অস্বস্তিকর।’

মঞ্চ থেকে এসেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিনয়ের হাতেখড়ি সেখানেই। মূলত অরিন্দম শীলের ‘‌ঈগলের চোখ’ দিয়ে তিনি দর্শক ও অন্যান্য পরিচালকের নজরে আসেন। এরপর হইচইয়ের ‘‌ ব্যোমকেশ’ সিরিজ ও সৃজিত মুখার্জির একাধিক সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকনন্দিত হয়।