বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান অনেক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল। দিবসটি জাতীয়ভাবে পালিত হয়েছে। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বঙ্গমাতা’। খোরশেদ বাহারের ‘বঙ্গমাতা ইতিহাসের নিভৃত সৈনিক’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নাসরীন মুস্তাফা। গৌতম কৈরীর পরিচালনায় এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ৩০ মিনিট ব্যাপ্তির এ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়েছে। এতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন জ্যোতিকা জ্যোতি। 

প্রিমিয়ারের পর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিনে দেশের সব শিল্পকলা একাডেমিতে সিনেমাটির প্রদর্শনী করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখানো হবে বঙ্গমাতা। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামাঞ্চলে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। আগস্টজুড়ে চলবে এ কার্যক্রম। সিনেমাটি নিয়ে জ্যোতিকা জ্যোতি, ‘ আমার সৌভাগ্য এমন চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমাটি দেখে সেন্সর বোর্ডের একজন সদস্য এত প্রশংসা করলেন যে হতবাক হয়ে গেলাম। কারণ উনি খুব সহজে ভালো বলেন না, কারণ উনি অরুণা বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, ‌পরিচালক গৌতম কৈরী এত মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে প্রেজেন্ট করেছেন যে তিনি মুগ্ধ! একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যে মানুষের মনে এত বড় দাগ কাটতে পারে, সেটা শুনে খুব আনন্দ হচ্ছিল।’

জ্যোতি জানান, সারা দেশে ‘বঙ্গমাতা’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের জন্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ দেশের শিল্পকলা একাডেমিসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব সংস্থায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে আগস্টজুড়ে ১ ঘণ্টা পরপর চলচ্চিত্রটির শো চলবে। 

দর্শকের উদ্দেশে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বঙ্গমাতা দেখার জন্য। এটা আমাদের সবার দেখা জরুরি। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস। এতে রয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান, দেশের জন্য যা অপরিসীম। আমার সৌভাগ্য যে আমার অভিনয়ে এমন মহীয়সী নারীর জীবনী পর্দায় রূপদান করতে পেরেছি। এটা যে কত বড় একটি বিষয়, কত বড় সৌভাগ্যের বিষয়, তা অনুভব করতে পারছি।’

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অপরিসীম অবদান রয়েছে। বঙ্গমাতা স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় উঠে আসবে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ছোটবেলা থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের ঘটনা। গত বছরের শুরুতে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শুটিং করা হয়েছিল।