গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করায় কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম প্রেস কনফারেন্সে নেমে এসেছিল পিনপতন নীরবতা। জুরি বোর্ডের কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।
জুরি বোর্ডের সভাপতি বিনোশকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, কেন তিনি খোলা চিঠিতে সই করেননি? গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সে চিঠিতে ৩৫০ জনের বেশি চলচ্চিত্রকার ও শিল্পী সই করেছিলেন। এরপর তিনি আর কিছু বলেননি। যদিও পরবর্তী সময়ে বিনোশও সে চিঠিতে নিজের নাম যুক্ত করেছেন।
সেদিনের সে নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই হয়তো কান চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ জোরেশোরেই নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে।
উৎসবের পক্ষ থেকে হয়তো গাজার বিষয়টি নিয়ে কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর মাঝেও কানের ‘মার্চে ডু ফিল্ম’ অংশে প্যালেস্টাইন ফিল্ম ইনস্টিটিউটকে (পিএফআই) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পিএফআইয়ের প্রতিনিধি মোহনাদ দ্য হলিউড রিপোর্টারকে বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো উৎসব করতে আসিনি। আমাদের উদ্যাপনের কিছু নেই। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্যালেস্টাইনি সিনেমা ও গল্পগুলোর সঠিক উপস্থাপন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাজটা করা খুব কঠিন, কারণ আমাদের অনেক সদস্যের পরিবার এখনো গাজায় আটকে আছে। বিষয়টি পীড়াদায়ক হলেও আমরা এ ইন্ডাস্ট্রিকে এমনভাবে বদলাতে চাই, যাতে সেটা আমাদের মতো নিপীড়িত ও অবহেলিতদের জায়গা দেয়’।
কান উৎসবে এবার নিজেদের সবচেয়ে বড় আয়োজন নিয়ে এসেছে পিএফআই। হ্যাশট্যাগ হেয়া দেয়ার অ্যান্ড ফরএভার’ নামে এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সিনেমা প্রদর্শনী, প্রযোজকদের সঙ্গে আড্ডা, আলোচনাসভা ইত্যাদি।
এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্যালেস্টাইনি প্রযোজকদের নিয়ে সেশন ও ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন গাজা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎ। পিএফআইয়ের আরেকটি আয়োজন ‘ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো’। এটি গাজার ওপর নির্মিত আটটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারির একটি সংকলন।
এবার পিএফআইয়ের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হলো তাদের নিজস্ব পিএফআই ফিল্ম ফান্ডের সূচনা। এটি করা হয়েছে কয়েকটি দাতব্য সংস্থার সহায়তায়।
পিএফআইয়ের প্যাভিলিয়নে আরেকটি বিশেষ প্রদর্শনী ছিল ফাতমা হাসসুনার আলোকচিত্র নিয়ে। ফাতমা একজন প্যালেস্টাইনি সাংবাদিক ও শিল্পী। তিনি কানে দেখানো প্রামাণ্যচিত্র ‘পুট ইওর সোল অন ইওর হ্যান্ড অ্যান্ড ওয়াক’-এর একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। এপ্রিলে গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ফাতমা।
কান উৎসবের প্রতি কতটা সমর্থন পেয়েছেন—এমন প্রশ্নে ইয়াকুবি বলেন, ‘উৎসবের সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। প্রতিষ্ঠানটি ফ্রান্সের সরকারি অবস্থান অনুসরণ করে, তবে যারা এখানে কাজ করছেন, তারা আমাদের প্রতি অনেক সহানুভূতিশীল।’
সূত্র ও ছবি: হলিউড রিপোর্টার










