দেশের অন্যতম ব্যান্ড সোলস ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাদের ৩০ বছরের পুরনো একটি গান নতুন আবহে প্রকাশ করেছে। বুধবার রাতে দলটির ইউটিউব চ্যানেলে ‘সাগরের প্রান্তরে’ নামের গানটি উন্মুক্ত হয়েছে। কালজয়ী এ গান প্রকাশ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে সোলসের সুপারহিট ‘এ এমন পরিচয়’ অ্যালবামে। তখনো গেয়েছিলেন নাসিম আলী খান। ২০২৩ সালে এসে তার কণ্ঠেই গানটি আবারো প্রকাশ হলো।

সোলস থেকে জানা যায়, ‘সাগরের প্রান্তরে’ গানটি বাংলায় রূপান্তর করেছে ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার ‘জ্যামাইকা ফেয়ারওয়েল’ গান থেকে। এর কথা, সুর ও কণ্ঠ আমেরিকান শিল্পী হ্যারি বেলাফন্টের। যিনি গত ২৫ এপ্রিল ম্যানহাটন শহরে নিজ বাসায় মারা যান। বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

গানটি সোলসের নিজস্ব না হলেও, এটি প্রকাশের পর দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তিন দশক পর এর নতুন সংগীতায়োজন প্রসঙ্গে দলনেতা পার্থ বড়ুয়া বলেন,‌ ‘সাগরের প্রান্তরে’ গানটি সবারই পরিচিত। পুরনো কালজয়ী গানটি নতুন করে সংগীতায়োজন করেছি। গানের সঙ্গে মিল রেখে সমুদ্র সৈকতে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। আশা করি, শ্রোতারা নতুন করে পুরনো দিনে ফিরে যাবেন। সোলসের ৫০ বছর পূর্তিতে এটি আমাদের চতুর্থ উপহার।’

বর্তমানে সোলস সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানে ছয়টি কনসার্টে অংশ নিচ্ছে দলটি। সে ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে গাইবেন তারা। গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে মিরাজ হোসাইন, এনামুল হক ও ফয়সাল আজাদের উদ্যোগে এ মিউজিক ফেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সোলসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর আগে যদি দেখো, আগে কিতা বাইসাব ও রিক্সা শিরোনামে তিনটি গান প্রকাশ হয়েছে। গানগুলো সোলসের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে দর্শকরা উপভোগ করতে পারবে।

সোলসের পথচলা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে, চট্টগ্রামে। তবে সূত্রপাত হয়েছে তারও এক বছর আগে (১৯৭২)। সাজেদ উল আলমের নেতৃত্বে কয়েক তরুণ ‘সুরেলা’ নামের একটি ব্যান্ড গঠন করেন। ১৯৭৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সোলস’। এ লম্বা সময়ে এখানে অনেকে যুক্ত হয়েছেন, অনেকে বেরিয়ে গেছেন। তবে থেমে থাকেনি সোলস। চট্টগ্রামে গড়ে ওঠা এ ব্যান্ড প্রজন্মের পর প্রজন্মে ধরে রেখেছে জনপ্রিয়তা। সাজেদ, লুলু ও রনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরবর্তী সময়ে সোলসে যোগ দেন নকীব খান, পিলু খান, তপন চৌধুরী, নাসিম আলী খান, আইয়ুব বাচ্চু, রনি বড়ুয়া, নেওয়াজ, পার্থ বড়ুয়াসহ আরো অনেকে।