সিনেমা ও ছোট পর্দা দুই মাধ্যমেই পরিচিত মুখ ইমতিয়াজ বর্ষণ। ওটিটি মাধ্যমেও সাড়া ফেলেছেন এ তারকা। কেমন কাটে তার ঈদের সারা দিন। ঈদ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

ঈদের দিন কীভাবে কাটে?

ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়তে যাই। তারপর গরু জবাই থেকে মাংস রেডি করা পর্যন্ত সময় দিতে হয়। যদিও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হবে, আমি সে চিন্তাই করতে থাকি। বেশ সময় লাগে এ কাজগুলো সারতে। তারপর বাসায় প্রথম রান্না করা মাংসটা খেয়ে আমি কিছুক্ষণ বিশ্রাম করি। তারপর বাইরে যাই। কারণ ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের বাসায় যাওয়ার একটি বিষয় থাকে। কোরবানির ঈদে আমার মোটামুটি দু-তিনদিন পর্যন্ত এভাবে যাওয়া-আসার মধ্যেই কাটাতে হয়। গ্রামে যেতে হয়। চট্টগ্রামে কোরবানির সময় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার একটা ট্র্যাডিশন আছে আর আমার বাবাকে যেহেতু ওখানে কবর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এমনিতেও গ্রামে যেতে হয়। গ্রামে যারা আত্মীয়স্বজন আছে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে হয়। তবে এখন অধিকাংশ আত্মীয়স্বজন শহরেই থাকে। তাই সেখানেই যাওয়া-আসাটা বেশি হয়।

গ্রামের বাড়ি তো চট্টগ্রামে। বাসায় কি চাটগাঁইয়া রান্না হয়?

আমাদের বাসায় চট্টগ্রামের ট্রেন্ড অনুসারে অনেক বেশি ঝাল দিয়ে রান্না করা হয়। কখনো বড় পিস করে কাবাব রান্না করে। আমি ঝুরা মাংসের জন্য অপেক্ষা করি। এটা আমার খুব ভালো লাগে।

কখনো নিজে রান্না করেছেন?

কোরবানির সময় আমি কখনো রান্না করিনি। অত বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে আমি রান্না করতে পারি না। ছোট পরিসরে ঘরে তিন-চারজন মানুষের জন্য রান্না করি মাঝে মধ্যে।

টিভিসিতে তো ভালো রান্না করেন!

হ্যাঁ। ও রকম ছোটখাট রান্না আমি করতে পারি। কিন্তু অনেক বেশি মানুষের জন্য রান্না করার অভিজ্ঞতা এখনো আমার হয়নি।

রান্নার অভিজ্ঞতা বলা যাবে?

আমি আসলে রান্না শিখেছি ঢাকায় আসার পরে। ঢাকায় যেহেতু একা থাকতে হতো। প্রথম ঢাকায় আসি ২০১০-১১ সালের দিকে। তখন নিজের প্রয়োজনে আমাকে রান্না শিখতে হয়েছে। সে হিসেবে আমি টুকটাক মাছ-মাংস রান্না করতে পারি। তবে বিশেষ কিছু তেমন পারি না। আমার রান্না মানুষ খেতে পারবে, কিন্তু খুব একটা আহামরি স্বাদ হয় না।

ঈদের সময় বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না হয়। তখন কি স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ রাখা হয়, নাকি সবই খাওয়া হয়?

না। এ সময় স্বাস্থ্য নিয়ে একদমই সচেতন থাকা হয় না। ঈদের কয়েকটি দিন আমি ছোটবেলা থেকেই কখনো স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবিনি। এখনো ভাবি না। তবে সাধারণ দিনগুলোয় আমি স্বাস্থ্যসচেতন থাকি। কিন্তু ঈদের দিনগুলোয় একদমই মেইনটেইন করা হয় না।

ঈদের বিশেষ কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?

আমি আসলে খুব সহজে কোরবানির গরু কিনে ফেলতে পারি। আমি কখনই বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে গরু কিনিনি। খুব ভালোভাবে কোরবানির গরু কিনতে পারি আমি। গরু নিয়ে এ রকম অনেক স্মৃতি আছে। অনেক তাড়াতাড়ি আমি গরু কিনে নিয়ে চলে এসেছি। দেখা যেত যে আমার কেনা গরুটাই সবচেয়ে ভালো। আমি শুধু আমার নিজের জন্য নয়, আমার বন্ধুদের জন্যও গরু কিনে দিতাম।

এখনো কি হাটে গিয়ে গরু কেনা হয়?

হ্যাঁ। এখনো আমি হাটে গিয়ে গরু কিনি। এবারো আমি হাটে গিয়ে দেখেশুনে গরু কিনব।

এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না? মানুষ চারপাশে ভিড় করে না?

গরুর হাটে আসলে এত মানুষ থাকে যে আলাদা করে কাউকে চেনা সম্ভব হয় না। যারা চেনে, তারা কথা বলে। হাটে মানুষ তো আসলে ব্যস্ত থাকে, সেখানে কয়জনই বা আমাকে চিনবে! তার আগেই আমি কিনে নিয়ে চলে আসি। বন্ধুবান্ধব নিয়ে গরু কিনতে যাই। তারা একটা শক্তি হিসেবে কাজ করে। গরুর হাটে ঘোরা চট্টগ্রামের ছেলেদের একটা ট্র্যাডিশন।

এবারের ঈদে আপনার কী কী কাজ আসবে?

এবারের ঈদের আগে আমি আসলে যে কাজগুলো করছি, সেগুলো ঈদের পর আসবে। কয়েকটা টেলিভিশন প্রডাকশন আসতে পারে। এখন যে কাজগুলো করছি, সেগুলো আসলে ঈদের পর আসবে, ঈদে আসবে না।