টাইটানের অভিযাত্রীরা আর ফিরবেন না। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর এমন চাঞ্চল্য সম্ভবত আর কোনো নৌযানের ডোবা নিয়ে হয়নি। টাইটান নিয়ে চাঞ্চল্য হওয়ার আরেকটি কারণ এ সাবমেরিন নিয়ে দেখতে যাওয়া হয়েছিল টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ। টাইটানের সূচনা, যাত্রা ও দুর্ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে সবাই কমবেশি জানেন। এ নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত বলা বাহুল্য। তবে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন জেমস ক্যামেরন। টাইটানিক, অ্যাভাটারের নির্মাতা টাইটানের ত্রুটি নিয়ে শুরু থেকেই সচেতন ছিলেন। এ নিয়ে আগেও তিনি কথা বলেছেন। এবার টাইটানের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছেন তিনি।

জেমস ক্যামেরন কেবল সিনেমা নির্মাতাই নন, একজন অভিযাত্রীও বটে। প্রশান্ত মহাসাগরের তলায় মারিয়ানা ট্রেঞ্চ ঘুরে এসেছেন তিনি। পৃথিবীর গভীরতম স্থানে নেমেছিলেন তিনি। অস্কারজয়ী এ পরিচালক টাইটান-দুর্ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘‌এ রকম দুর্ঘটনা আমরা কখনো দেখিনি।’ সাবমার্সিবল ভেহিকলের (ডুবোজাহাজ বা সমুদ্রের গভীরে চলাচল উপযোগী যান) ক্ষেত্রে ক্যামেরন একজন বিশেষজ্ঞ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চে যাওয়ার জন্য তিনি বহু বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিজেও নকশা করেছেন সাবমার্সিবলের। ওশেনগেটের টাইটানের সমস্যাগুলো তাই তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন।

সাধারণত এ ধরনের অভিযানে দুর্ঘটনা ঘটে না। ক্যামেরনের ভাষায়, ‘‌এমন গভীরতায় কখনো প্রাণহানি বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।’ তবে সমুদ্রের অনেক গভীরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাবমার্সিবলের চাপ সহন ক্ষমতা না থাকলে তা মারাত্মক হতে পারে। ক্যামেরন বলেন, ‘‌এ রকম হলে ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে। ১০টা ডিনামাইট ফাটার মতো।’

ক্যামেরন জানিয়েছেন টাইটানের ডিজাইনই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন টাইটানের দেয়াল কার্বন-ফাইবারের কম্পোজিট দিয়ে তৈরি। সাধারণত অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে এর ব্যবহার খুব বেশি। এগুলো স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে হালকা হয়। ক্যামেরন বলছেন, ‘‌কিন্তু সমস্যা হলো কার্বন-ফাইবারের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম। সমুদ্রের নিচে চলা যানের জন্য চাপ সহ্য করা খুব জরুরি। টাইটানে তা হয়নি। এটি যে কাজের জন্য বানানো, যানটি তার উপযুক্ত না।’

এছাড়া তিনি এর সেন্সর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আপত্তি তোলেন। কোম্পানি এ যানের হালে একটি সেন্সর যুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে কার্বন কম্পোজিটের অবস্থা জানা যায়। নিজেদের প্রচারণায় ওশেনগেট বলেছিল এটি একটি নতুন ও উদ্ভাবনী বিষয় তারা করেছে। এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাবমার্সিবলটির অবস্থা সম্পর্কে চালক অবগত হতে পারবেন। কিন্তু কোম্পানির এ প্রচারের বিপরীতে ক্যামেরন বলেছেন, টাইটানের বডি ভেতরের দিকে দেবে যেতে শুরু করলে এটি তা জানাবে। সে সময় আর কিছু করার থাকে না। তিনি বলেন, ‘‌এটা গাড়ির জ্বালানি নির্দেশকের মতো কাজ করে না যে তেল শেষ হওয়ার সময় জানিয়ে দেবে। এটি ভিন্ন। শেষ সময়ের অবস্থা জানায়।’

জেমস ক্যামেরন ২০১২ সালে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম স্থান চ্যালেঞ্জার ডিপে নেমেছিলেন। সাবমেরিন থেকে বের হয়ে তিনি ৫ ঘণ্টা ধরে সমুদ্রের তলদেশের নানা চিত্রও তুলেছেন। নিজে তিনি যে সাবমেরিন নকশা করেছেন তার জন্য কোনো অনুমতি নেননি। কিন্তু তিনি বলেন, ‘‌আমি নীতিতে বিশ্বাস করি। অনুমতিহীন কোনো যানে আমি অর্থের বিনিময়ে যাত্রী পরিবহন করব না।’

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস