বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। নাটক, সিনেমা আর বিজ্ঞাপন নির্মাণে সিদ্ধহস্ত তিনি। ফারুকী নির্মিত একাধিক সিনেমা দেশ ও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সমাদৃত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নানা আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত তিনি। ফারুকী নির্মিত শনিবার বিকেল সিনেমা সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণে সাড়ে তিন বছর ধরে ঝুলে আছে। সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাত্কারে হাজির হয়েছিলেন এ নির্মাতা। কথা বলেছেন নানা বিষয় নিয়ে।

সাক্ষাত্কারে বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, এখন বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আর নৌবাহিনীর একটি প্রজেক্টের কাজ করছি। এর বাইরে একটা ওয়েব সিরিজের স্ক্রিপ্ট লিখছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয় নিয়েই পোস্ট করেন ফারুকী। বর্তমান সময়ে এ মাধ্যমের অতিরঞ্জন বিষয়টি চোখে পড়ে, নির্মাতা হিসেবে তার দৃষ্টিতে এ বিষয়টি কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমস্যা হচ্ছে, এটা আমাদের গ্রে-এরিয়া দেখতে দিতে চায় না। মাধ্যমগুলো সাদা-কালোভাবে সব দেখতে ভালোবাসে। এখানে পক্ষ, নয় বিপক্ষ। কিংবা হয় আপনি আমার বন্ধু, নয় আপনি আমার শত্রু। হয় ভালো, নয় খারাপ। এর মাঝে কিছু নেই। একজন স্বাধীন মানুষ তো কারোর ছকে পড়বে না। যখন আপনি এর বাইরে কিছু করবেন তখন সমালোচিত হবেন। এর সঙ্গে আমি একমত নই। আমি মনে করি, বিশ্বব্যাপী সাদা-কালো চিন্তা করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। আর এটি ঘৃণা এবং সংঘাত বাড়াচ্ছে।’

সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আর সব ধারায়ই তিনি কাজ করে চলেছেন দক্ষভাবে। কোন মাধ্যমে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন—এ নিয়ে ফারুকী জানান, তিনি পর্দায় যে মুহূর্ত নিয়ে কাজ করেন সেটা তাকে ভাবায়। তার ওয়েব সিরিজ লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেনের উদাহরণ টেনে বলেন, এ কাজটায় যে অসহায়ত্ব সেটাই তুলে ধরতে চান, এখানে মাধ্যম বিষয় নয়। সিনেমা বা নাটক হিসেবে করলেও একইভাবে এটা পর্দায় তুলে ধরতেন। দেশীয় কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে ফারুকী বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের দেশে অনেক ভালো নির্মাতা আছেন এবং সামনে আরো আসবেন। আর আমাদের বিশাল দর্শকশ্রেণী রয়েছে যারা বিভিন্ন রকমের কাজ দেখতে অভ্যস্ত। আমি মনে করি, এটা বিশাল একটা আশার দিক। আমাদের শুধু প্রয়োজন স্বাধীনতা। আপনি যদি পাখিকে স্বাধীনভাবে গাইতে না দেন তাহলে সেটা আর্ট ওয়ার্কের ক্ষেত্রে খুব মুশকিলের। আর্টের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা অনেক বড় একটি বিষয়, পাখিকে স্বাধীনভাবে গাইতে দিতে হবে। যদি তা করা হয় তাহলে বাংলাদেশের নির্মাতাদের পক্ষে ওয়ান্ডার নির্মাণ করা সম্ভব। অন্যান্য মাধ্যমে আমরা যে কাজ দেখে হইচই করি, এ ধরনের কাজ হয়েছে, হচ্ছে ও হবে।’