হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। এ সময় আয়রনম্যান হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত। মার্ভেলের এ চরিত্রের কারণেই হুহু করে বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা ও পারিশ্রমিক। এছাড়া শার্লক হোমস চরিত্রটিও তাকে জনপ্রিয় করেছে। কিন্তু এ অভিনেতার ক্যারিয়ার বিভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। একদিকে যেমন ছিল ক্যারিয়ারে, অন্য দিকে ছিল ব্যক্তিগত জীবনেও। নব্বইয়ের দশকে তিনি চার্লি চ্যাপলিনের বায়োপিকে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও চ্যাপলিন চরিত্রে ডাউনি জুনিয়রের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন সবাই। সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়নও পেয়েছিলেন। কিন্তু সে অভিনেতাই একসময় হলিউডে হয়েছিলেন ব্রাত্য।

রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে একাধিকবার গ্রেফতার হন। এর বেশির ভাগই ছিল মাদকসংক্রান্ত। ১৯৯৯ সালে তিনি বিচারকের সামনে বলেছিলেন, ‘‌আমার মনে হয় মুখের মধ্যে একটা বন্দুকের নল, যার ট্রিগার আমার আঙুলে, সে অবস্থায় বন্দুকের নলের ধাতব স্বাদ আমার জন্য মাদকের মতো।’ তিনি আরো জানান, আট বছর বয়স থেকেই মাদকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তার বাবা রবার্ট ডাউনি সিনিয়রও মাদকাসক্ত ছিলেন। বাবাই প্রথম তাকে মাদক দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে হেরোইন, কোকেন ও একটি পয়েন্ট ৩৫৭ ম্যাগনাম হ্যান্ডগান রাখার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্যারোলে মুক্ত অবস্থায় একদিন নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে অননুমোদিত প্রবেশ করেন। তিন বছরের প্রবেশন দেয়া হলে নিয়মিত মাদক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একবার সে পরীক্ষা না করালে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের জেলে ছয় মাস কাটাতে হয়েছিল। ফলে হলিউডে তিনি হয়ে পড়েন ব্রাত্য।

এ অবস্থা থেকে তিনি বের হতে পেরেছিলেন মার্ভেলের মাধ্যমে। কিন্তু ডাউনির ক্যারিয়ারের যা দশা ছিল, মার্ভেলের চিন্তায়ও ছিল না তার নাম। ডাউনিকে এ মার্ভেলের সিনেমায় নিয়ে আসেন পরিচালক জন ফ্যাভেরিউ। তিনি এর আগে ডাউনির সঙ্গে এলফ সিনেমায় কাজ করেছিলেন। তার মনে হয়েছিল টনি স্টার্ক চরিত্রটি ডাউনি জুনিয়রের মতো করে আর কেউ করতে পারবে না। ফ্যাভেরিউই লেগে থেকে মার্ভেলকে রাজি করিয়েছিলেন। আর প্রথম সিনেমাটির পরই টনি স্টার্ক চরিত্রটি জনপ্রিয় হয়। এরপর বলা চলে মার্ভেলের প্রাণই হয়ে ওঠেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

মার্ভেলের সবচেয়ে বড় হিট ছিল অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম। সিনেমাটির জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বাইরে আরেকটি চুক্তি ছিল তার। শোনা যায় মুনাফার ৮ শতাংশ পেয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে এসেছিল আরো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার । অর্থাৎ মোটের ওপর ১৩ কোটি ডলার পেয়েছিলেন এ সিনেমার জন্য। মজার ব্যাপার তিনি চলে যাওয়ার পরই মার্ভেলের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। তাই বলাই যায় ব্রাত্য থেকে জনপ্রিয়তম অভিনেতা হয়েছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

সূত্র ও ছবি: ইয়ন