বৃহস্পতিবার থেকে ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্জে স্ট্রিম হচ্ছে ‘‌অগোচরা’। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন সিদ্দিক আহমেদ। নির্মাতা হওয়ার আগে লিখেছেন ‘‌ধনুর্ধর’, ‘‌দশগ্রীব’, ‘‌পিপীলিকার ডানা’র মতো জনপ্রিয় থ্রিলার। এবার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের লেখা ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প ‘‌অগোচরা’কে পর্দায় এনেছেন তিনি। বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন অগোচরার পেছনের গল্প নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান।

আশির দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডকে পর্দায় আনার চিন্তা কেন?

প্রথমত নাজিম ভাইয়ের গল্পটা আমার পছন্দ ছিল। উনি খুব ডিটেইলে গল্পটা বলেন। সময় আর সে সময়ের পরিস্থিতিটা পরিষ্কার থাকে তার গল্পে। উনি অনেক বেশি লোকাল। অর্থাৎ উনি যেখানকার গল্পটা বলছেন সেখানকার মানুষ, সময়, প্লটের চলমান অবস্থাটা একদম র থাকে। অগোচরাতেও তা-ই ছিল। সেখান থেকে আমার মনে হয়েছিল, অগোচরার একটা চমৎকার অ্যাডাপ্টেশন করা যায়। আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্পেও আমার আগ্রহ আছে। এ জনরা এক্সপ্লোর করতে চাই। সেখান থেকেই অগোচরা করা।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আপনার ছিল। সেখান থেকে অগোচরা নিয়ে কাজ কীভাবে শুরু হলো?

সত্যি বলতে আমি নিজে একটা গল্প ভাবছিলাম। ওই সময় থ্রিলার জার্নাল নামে একটা পত্রিকা বের হয়। ওখানে আমার একটা লেখা ছিল। তো জার্নালের কপি যখন আমার কাছে আসে, ওখানেই নাজিম ভাইয়ের গল্পটা পাই। বই প্রকাশের আগে অগোচরা ওখানে ছাপা হয়। গল্পটা পড়ার পর আমার খুব ভালো লাগে। পুরান ঢাকার খুবই কাছের গল্প। গল্পটা খুব ‘‌ক্যারেক্টার ড্রিভেন’। সে কারণেই আমার মনে হয়েছিল এটা থেকে সিরিজ করা যায়।

সিরিজের কাজ কবে শুরু করলেন?

সত্যি বলতে সেটা একটা দীর্ঘ জার্নি। পরিকল্পনা থেকে অন্যান্য কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের জুলাই থেকে। বিঞ্জের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। স্ক্রিপ্ট ফাইনাল করতে করতে জুলাই ২০২২। এর পরের চ্যালেঞ্জ ছিল কাস্টিং। আমার নিজের কিছু পরিকল্পনা ছিল। সেসব নিয়ে আলাপ, প্লাটফর্মের ফিডব্যাক সব মিলিয়ে সময় লেগে যায় অনেকটা। চিত্রনাট্য করার সময়ও অনেক খোঁজখবর করার দরকার পড়ে। সেসব করতে ছয় থেকে সাত মাসের মতো সময় লেগেছিল। ওই সময়ের পোশাক-আশাক থেকে আরো কিছু বিষয় নিশ্চিত করার ব্যাপার ছিল।

এখান থেকেই আমার তৃতীয় প্রশ্ন আসবে। আশির দশকের ঢাকা আর তার মানুষকে উপস্থাপন করার চ্যালেঞ্জ কীভাবে পার করলেন?

আমরা এটা করতে গিয়ে দুটো জায়গায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ছিলাম। প্রথমত লোকেশন, কারণ এইটিজের মতো লোকেশন এখন আর কোথাও নেই। রিক্রিয়েট করতে হয়েছে। দ্বিতীয় ছিল বাজেট। বাংলাদেশে কাজের ক্ষেত্রে আমরা যে বাজেট পাই তা দিয়ে হাত খুলে কাজ করা যায় না। বাজেট বেশি থাকলে লোকেশন রিক্রিয়েট করা যায়। এখানে সে সুযোগ ছিল না। বাজেট নিয়ে আমি আপত্তি করছি না, কারণ এর চেয়ে বেশি আমাদের দেয়া সম্ভব নয়। তো যা ছিল তা দিয়েই করেছি। শুটিংটা করতে হয়েছে ঢাকা আর মানিকগঞ্জে। আরেকটা সমস্যা ছিল ফায়ার আর্মস নিয়ে। আশির দশকের অস্ত্রগুলো সহজে এখানে পাওয়া যায় না। আমরা কার নাইনটি এইট স্নাইপার ব্যবহার করতে চাচ্ছিলাম। সেটা আমরা পাইনি। তো এটার জন্য গল্পের সময়কালও একটু বদলাতে হয়েছে।

আপনার এ সিরিজের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা সৌহার্দ্য একেবারেই নতুন। আপনি কি নতুনদের নিয়ে কাজ করতে চান বা আপনার দর্শনটা এক্ষেত্রে কী?

নতুন পুরনো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে কতটা ভালো পারফরমার, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সৌহার্দ্য থিয়েটার করে এসেছে। ও ভালো পারফরমার। অগোচরার বেশকিছু সংলাপও সৌহার্দ্যর লেখা। এছাড়া গল্পের চরিত্রের জন্যও নতুন মুখ আমার দরকার ছিল, যাকে আগে কেউ দেখেনি। আর আমিও চাই নতুন মুখ আসুক। ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মুখ আসা দরকার।

সিদ্দিক আহমেদের কাছ থেকে এরপর কী পাচ্ছি?

এখন আমি ‘‌সফরনামা’ নামে একটা সিনেমা লিখছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটির গল্প। এটা অনুদানের জন্য জমা দেব। মুক্তিযুদ্ধটা পেছনের গল্প, এর সঙ্গে আরেকটা গল্প থাকছে। তবে সেটায়ও সময় লাগবে। এর মধ্যে আরো একটা কাজ করার ইচ্ছা আছে। অ্যান্থলজি হবে হয়তো এটা। সেটা নিশ্চিত হলে জানাব।