নাটক, সিনেমা দুই মাধ্যমেই সাবলীল আজম খান। বিজ্ঞাপনেও পরিচিত মুখ তিনি। অভিনয়ের সঙ্গে চলছে ব্যাংকের পেশাগত কাজ। অভিনয় ও ঈদ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এ অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

আপনি পেশায় ব্যাংকার। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

ব্যাংকে কাজ করলেও আমি মূলত কমিউনিকেশন্সে কাজ করি। ব্যাংকে কাজ করার সূত্রে বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতে যেতে হয়েছে। ব্যাংককে রিপ্রেজেন্ট করতে হয়েছে। কাজটা করতে গিয়ে এটিএন বাংলার সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। আমি ২০১৫ সালের কথা বলছি। সে সময় এটিএন বাংলার উপদেষ্টা ছিলেন কর্নেল মীর মোতাহের হাসান ও শিল্পী চন্দন সিনহা। তাদের দুজনকে একদিন গল্পচ্ছলে বলেছিলাম, আপনাদের টেলিভিশনে তো অনেক নাটক, টেলিফিল্ম হয়, অফিসের কোনো দৃশ্য যদি থাকে, যেখানে হয়তো একটু বসে থাকলাম, কোনো কথা বলতে হলো না, কোনো সংলাপ থাকল না, এ রকম কোনো কিছু হলে আমি অভিনয় করতে আগ্রহী। তারা কিছু গুণী নির্মাতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সূত্রে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আমি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায়। তখন থেকেই অভিনয়ের শুরু।

আট বছরে অসংখ্য নাটক, সিনেমা, টেলিফিল্মে আপনি অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের জন্য সময় কীভাবে ব্যালান্স করেন?

২৪ ঘণ্টায় এক দিন হয়। এর মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টা সময় দিতে হয় মূল প্রফেশনকে। এরপরও আপনার কাছে যথেষ্ট সময় থাকে। ওই সময়টায় মানুষ নিজের একটা জগৎ তৈরির চেষ্টা করে। তা থেকেই আমি অভিনয়ের সময়টা বের করি। টেলিভিশনে বাবার চরিত্রই আমার বেশি করা হয়। পাশাপাশি অফিসের বস, শিল্পপতি কিংবা করপোরেট চরিত্রে অভিনয় করা হয়। এ কাজগুলোয় চার-পাঁচটা সিকোয়েন্স থাকে। মূলত ইনডোরে কাজগুলো হয়। সন্ধ্যার পরের সময়টা কাজে লাগাই। ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগাই। যখন কোনো সিরিয়াল বা সিনেমায় কাজ করি, কিংবা ঢাকার বাইরে কাজ করি, তখন ছুটি নিতে হয়। যারা আমাকে এ সুযোগটা করে দেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

আপনাকে বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে...

বিজ্ঞাপনে আমি ২০১৮ সালে কাজ শুরু করেছি। আমার প্রফেশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিজ্ঞাপনে আমি কাজ করি না। যেহেতু আমি একটি ব্যাংকে কাজ করি, তাই কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন আমি কখনো করিনি। তবে এটা ছাড়া অন্যান্য সেগমেন্টে আমি কাজ করেছি।

বিনোদনের এতগুলো ধারার মধ্যে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোনটিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

আমি মূলত নাটকের মানুষ। নাটকেই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। নাটকে কাজ করেই আমি বেশি তৃপ্তি ও আনন্দ পেয়েছি। সিনেমায় কাজ করা শুরু করেছি ২০১৮ সালে। এবারের ঈদে আমার একটি সিনেমা মুক্তি পাবে। এটি সরকারি অনুদানের সিনেমা। বাংলাদেশের তাঁত শিল্প নিয়ে তৈরি। সিনেমাটার নাম লাল শাড়ি। পরিচালনা করেছেন বন্ধন বিশ্বাস। অপু-জয় চলচ্চিত্রের প্রথম নিবেদন। এর বাইরে বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন ধারায় আমি কাজ করেছি। কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি। তবে সবকিছুর ওপরে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, আনন্দ পাই নাটকে কাজ করে। নাটকের কারণেই আমি আজকে আট বছর পরে এ জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।

লাল শাড়িতে কাজ করার অভিজ্ঞতা একটু বলুন।

গত বছরের নভেম্বরে আমরা লাল শাড়ির কাজ শুরু করেছিলাম। মানিকগঞ্জে এ সিনেমার কাজ হয়েছে। আমাদের দেশের তাঁতশিল্পীরা নানাভাবে বঞ্চিত। মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চহারে সুদ নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। সেগুলো বিক্রি করে তারা ভালো দাম পান না। এ রকম একটা জনগোষ্ঠীর সংগ্রাম নিয়ে এ সিনেমার গল্প। এ সংগ্রাম করতে গিয়ে চরিত্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাদের অনেক আত্মত্যাগ আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ৮-১০ দিন শুটিংয়ে যেতে হয়েছে। খুব অল্প সময়ে কাজটা শেষ হয়েছে। এ বছরের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যতগুলো সিনেমা আছে, তার মধ্যে এ সিনেমা প্রথম মুক্তি পাচ্ছে। আমরা সিনেমাটি দেখার জন্য দর্শকদের অনুরোধ করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

ঈদে সিনেমার পাশাপাশি আপনার আর কী কী কাজ আসবে?

ঈদে সিনেমার পাশাপাশি নাটক, টেলিফিল্ম এগুলো থাকবে। আমি এখনো পুরোপুরি কনফার্ম না কতগুলো কাজ যাচ্ছে। কবে, কখন, কোথায়, কোন চ্যানেলে যাচ্ছে। তবে সেগুলো পরে আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমার দর্শকদের জানাতে পারব।

ছোটবেলার ঈদের কোনো স্মৃতি...

ঈদের সবচেয়ে বড় যে স্মৃতি আমার জীবনে আছে, সেটা হলো ঈদের দিন বাবার হাত ধরে নামাজ পড়তে যাওয়া। আমরা তিন ভাই, এক বোন। আমি সবার ছোট। আমার বাবা আমাকে নামাজ পড়তে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন। আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হতো। প্রস্তুত হতে সময় লাগত। বাবার সঙ্গে ঈদের দিন নামাজ পড়তে যাওয়া, এটা জীবনের সবচেয়ে দামি ও সুখের একটি স্মৃতি।